ঠুনকো বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটে আমরা খুব দুঃখ পেয়েছি: চিফ হুইপ
দুইটি ছোট সংশোধনী আনার কারণে একটি 'ঠুনকো' বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, "বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫ দিনে ১১৭টি বিল পাস করার রেকর্ড এই প্রথম, যা নজিরবিহীন। এত কিছুর পর বিরোধী দলের সদস্যরা ছোট দুইটি সংশোধনী আনার কারণে একটি ঠুনকো বিষয় নিয়ে ওয়াকআউট করেছেন। এ ঘটনায় আমরা খুব দুঃখ পেয়েছি।"
রোববার (১২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে ১৩৩টি অধ্যাদেশ চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশে সংশোধনীর প্রয়োজন থাকায় সেগুলো পরে বিল আকারে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ১১৭টি অধ্যাদেশ পাসের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সেই অনুযায়ী ৫ দিনে ১১৭টি বিল পাস করতে সংসদ সচিবালয় ও বিজি প্রেসের সংশ্লিষ্টরা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। তবে ওয়াকআউট করাকে গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অধিকার আছে ওয়াকআউট করার।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত এমপিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন— 'কোথাও কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে আপনারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন অথবা প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন। কিন্তু কেউ কখনো আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য নির্বাচিত হয়েছি, কাজেই মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাটা আমাদের দায়িত্ব। আপনারা আমার টুলস এবং হ্যান্ডস।'
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে নূরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সমস্যা সমাধানে নির্ধারিত ভর্তুকির ওপর আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, "বিগত স্বৈরাচার দেশ থেকে ২৭ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। প্রধানমন্ত্রী চান দেশের টাকা পাচার নয়, মানুষের কল্যাণে কাজে লাগুক এবং এটি শুধু তারেক রহমানকে দিয়েই সম্ভব।"
সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে চিফ হুইপ বলেন, "পার্লামেন্ট চলাকালীন শেরপুরে নির্বাচনের বিষয়ে একজন বিরোধীদলীয় সদস্য দাঁড়িয়ে দাবি করলেন যে তাঁদের এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন এবং তিনি তখন ইন্না লিল্লাহ পাঠ করেন। কিন্তু বাস্তবে লোকটি মারা যাননি এবং তিনি এখনো জীবিত আছেন। আগামী অধিবেশনে আমি সংসদে ওই বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার প্রস্তাব করব। আমি বিশ্বাস করতে চাই বাস্তবতা যাচাইয়ের নিরিখে উনারা দায়িত্ব পালন করবেন।"
জুলাই জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে পঁচাত্তরের দুর্ভিক্ষ, বাকশাল, নব্বইয়ের গণআন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে এক সুতোয় গেঁথে 'জুলাই জাদুঘর'কে সমৃদ্ধ করা হবে। এটি একটি 'জীবন্ত' বিষয় হবে এবং এর কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রীদের সম্পৃক্ত রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
