বিরোধী দলের কর্মসূচিকে ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ বলল বিএনপি
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মসূচিকে 'গণতন্ত্রের সৌন্দর্য' হিসেবে উল্লেখ করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের দাবি নিয়ে রাজপথে নামার অধিকার রয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, বিরোধী দলগুলোর দাবিদাওয়া আদায়ে রাজপথে কর্মসূচি পালন এবং সংসদে সক্রিয় থাকা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ফলে এসব কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বলে জানান তারা।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আজ (৪ এপ্রিল) রাজধানীতে বিক্ষোভ ও মিছিল করার কথা রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, "জুলাই সনদের পক্ষে সব ধরনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল কর্মসূচি পালন করছে। সংসদেও বিরোধী দল সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এটি নিয়ে বিএনপি তেমন কোনো সমস্যা দেখছে না। তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে, এটি স্বাভাবিক বিষয়।"
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি-দাওয়া নিয়ে কর্মসূচি দেওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ।"
তিনি বলেন, "এসব কর্মসূচি গণতান্ত্রিক রাজনীতির অপরিহার্য বিষয়। এই বিষয়গুলো রাজনীতিতে থাকেই। রাজনৈতিক দলগুলোর এই অধিকারগুলো আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।"
জামায়াত জোটের কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই বলেও জানান রিজভী।
তিনি বলেন, "জামায়াতের কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমরা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকলে, সেটি তো আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করা হবে। বিএনপি তা করবে না।"
বৃহস্পতিবার গুলশানে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, শনিবার বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াত জোট আরও জানায়, তাদের দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
জামায়াত সূত্র বলছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে এই কর্মসূচি ডাকলেও তারা সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে চায়।
নেতারা বলছেন, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে তারা রাজপথ ও সংসদ—উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকতে চান।
আগামী ৭ এপ্রিল জোটের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
হামিদুর রহমান আজাদ জানান, দাবি আদায়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চলবে। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সেমিনার ও সভার আয়োজন করা হবে। এরপরও সরকার জনমত উপেক্ষা করলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বিরোধী জোট।
হামিদুর রহমান বলেন, "সরকারি দল গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করা হয়েছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পথ তৈরি হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার সময়ে সাংবিধানিক স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে, যা ভুল।"
তিনি বলেন, "সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার প্রয়োজন। আর তা করতে হলে গণভোট মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে।"
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকলে আমাদের তো প্রতিবাদ করতেই হবে।"
তিনি বলেন, "রাজপথের কর্মসূচি শুধু সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য নয়, জনমত তৈরির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কাছেও আমাদের দায়বদ্ধতা আছে।"
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এর মধ্যে গণভোটের অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশও রয়েছে। এ অবস্থায় গণভোট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
