ছাদ থেকে পড়ে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যু
কলকাতার জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্ত আর নেই। বুধবার (২৭ মে) দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। খবর পাওয়া গেছে, সেখানে অবস্থিত তার প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
পরিচালক অনীক দত্ত নিজে ডোভার লেন এলাকার বাড়িতে থাকতেন। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে ঢাকুরিয়া এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
ইতিমধ্যে অনীক দত্তর বাড়িতে পুলিশ পৌঁছেছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুতই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসার আগে অনীক দত্ত প্রায় দুই দশক বিজ্ঞাপন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বহু দর্শকপ্রিয় বিজ্ঞাপনী চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। ২০১২ সালে তার পরিচালিত 'ভূতের ভবিষ্যৎ' সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তাকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে। যদিও এই ছবিটি ঘিরে সেই সময়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এরপর তিনি একে একে নির্মাণ করেন 'আশ্চর্য প্রদীপ', 'মেঘনাদ বধ রহস্য', 'ভবিষ্যতের ভূত', 'বরুণবাবুর বন্ধু' এবং 'অপরাজিত'-র মতো প্রশংসিত সিনেমা। প্রখ্যাত নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের জীবন অবলম্বনে নির্মিত 'অপরাজিত' সিনেমাটি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল 'যত কাণ্ড কলকাতাতেই'। ব্যক্তিগত জীবনে অনীক দত্ত কট্টর বামপন্থী ভাবধারার মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিচালকের এমন আকস্মিক প্রয়াণে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ভিড় করেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, "বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। অনীকের মেয়ের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দেহ এসএসকেএম-এ নিয়ে যাওয়া হবে ময়নাতদন্তের জন্য।" বামপন্থী নেত্রী দীপ্সিতা ধর বলেন, "এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। খুবই আকস্মিক ঘটনা।"
উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচ দিন আগে গত ২২ মে ৬৬ বছরে পা দিয়েছিলেন অনীক দত্ত। নিজের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরোনো স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই তার অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দুই বাংলার সিনেমাপ্রেমীরা।
