বিরোধী দল কথা বলছে, আমরা উত্তর দিচ্ছি—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: পানিসম্পদ মন্ত্রী
জাতীয় সংসদ সচল থাকা এবং সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যকার তর্ক-বিতর্ককেই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য বলে অভিহিত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, "পার্লামেন্ট চলছে, বিরোধী দল কথা বলছে আর আমরা তার উত্তর দিচ্ছি—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে সরকারি বা বিরোধী দল—কোনো পক্ষই যদি অন্যায়-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়, তবে পার্লামেন্টে মারামারি শুরু হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি কথা ও বাক্য বিনিময়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।"
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ডামোশ গ্রামে 'ডি-১৫ এন' খালের পুনঃখনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি এই কর্মসূচিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নিজে খাল খনন করে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং সকল পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করত। সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন তার সুযোগ্য সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাল খনন শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের কাছে এর ব্যাপক চাহিদা ছিল।'
বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, 'খালের মধ্যে পলি জমে আছে, অনেক জায়গায় অবৈধ দখল হয়েছে। খালের জায়গা নিতে হলে ডিসির অনুমতি লাগে, কিন্তু গত ১৭ বছরের শাসনামলে এই আইন মানা হয়নি। যে যার মতো খালের জায়গা দখলে নিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল কারণ তখন খাল খনন কর্মসূচি সচল ছিল। দীর্ঘদিন তা বন্ধ থাকায় রপ্তানি ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়েছে। এই পুনঃখননের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে।'
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, 'অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমাদের অনেক নেতা গুম-শহীদ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছি। অবকাঠামো ও উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্যই তারেক রহমান '৩১ দফা' প্রণয়ন করেছেন। এই ৩১ দফার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মনের কথা তুলে ধরেছেন। এজন্যই তিনি বলেন—সবার আগে বাংলাদেশ।'
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গার ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ 'ডি-১৫ এন' খাল খনন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই খনন কাজ সম্পন্ন করবে। প্রকল্পটির কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, ফরিদপুর পশ্চিমাঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ।
