বিরোধী দলের আপত্তির মুখে সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাস
বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মুখে কণ্ঠভোটে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে 'ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬'। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ত্রয়োদশ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উপস্থাপনের অনুমতি চাইলে এর ওপর বিরোধিতা করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
বিলটির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে এবং 'ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ (২০২৫)' সংরক্ষণের অপরিহার্যতা তুলে ধরে সাইফুল আলম বলেন, "ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ ২০২৫ কোনো সাধারণ আইনি দলিল নয়, এটি বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের নিরাপত্তা কবজ। এই অধ্যাদেশ বাতিল করা মানে কোটি মানুষের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা।"
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "এই অধ্যাদেশ বাতিল হলে ব্যাংক লুটপাটকারীরা আইনের ফাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। অতীতে সংকটগ্রস্ত ব্যাংক বাঁচাতে সাধারণ করদাতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এই অধ্যাদেশ সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করে বেসরকারি উৎস থেকে সংকট নিরসনের পথ দেখায়; এটি বাতিল হলে আবারও সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।"
সাইফুল আলম আরও বলেন, "বহু ব্যাংকে প্রকৃত ক্ষমতাশীলরা পর্ষদে নাম না রেখে পর্দার আড়াল থেকে নির্দেশ দেন এবং ব্যাংক লুট করেন। ইসলামী ব্যাংকসহ বহু ব্যাংকে এস আলমের নামে বেনামী মালিকানার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ ছায়া পরিচালকদের আইনগত স্বীকৃতি দিয়ে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিধান তৈরি করেছিল। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা বাতিল হলে অসাধু কুশীলবরা আবারও সুরক্ষা পাবে।"
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "ব্যাংক খাতে সরকারের ওপর থাকা বিশাল আর্থিক চাপ কমাতে বেসরকারি উদ্যোগে মূলধন পুনঃস্থাপন জরুরি; এতে নির্দোষ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।"
ব্যাংক পুনরুদ্ধারে নতুন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, "ব্যাংকগুলোর সংকট নিরসনে আমরা একটি 'নতুন উইন্ডো' বা বিকল্প সমাধানের পথ তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে লিকুইডেশনের ওপর নির্ভর না করেই বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় সম্পদ ও দায় পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।"
বিএনপির দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে অর্থমন্ত্রী বলেন, "আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং সুশাসন—এই তিনটিই হচ্ছে আর্থিক খাত পরিচালনায় বিএনপির সুপ্রতিষ্ঠিত দলীয় নীতি; আমরা আমাদের এই আদর্শিক অবস্থান থেকে সরব না।"
বিলের ওপর আর কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী নেই বলে জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
