'গণবিরোধী' বিল পাসের অভিযোগে সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
বিরোধী দলের প্রবল আপত্তি ও বাধা সত্ত্বেও একতরফাভাবে আইন পাস করার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দলীয় জোট।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালীন সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে 'স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯'-এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনীত 'স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল ২০২৬' পাস হওয়ার পরপরই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।
ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, 'দুঃখজনক হলেও সত্য বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও সংসদে যেসব গণবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে, আমরা তার দায়ভার নিতে চাই না। এজন্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলাম।'
এর আগে বিলটির ওপর আলোচনাকালে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯-এর সংশোধনের বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের বসানোর কোনো সুযোগ নেই।
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে বিলটি উত্থাপনকারী স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, 'এই আইন সংশোধন করা না হলে ফ্যাসিস্ট শক্তি ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দ্রুত নির্বাচনও দিয়ে দিবে।'
বিরোধী দলীয় নেতার ওয়াকআউট ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অধিবেশনে বলেন, 'আইন-প্রণয়নের ফার্স্ট, সেকেন্ড এবং থার্ড রিডিংয়ে উনারা (বিরোধী দল) সহযোগিতা করেছেন, অংশগ্রহণ করেছেন।'
উল্লেখ্য, এর আগেও চলতি অধিবেশনে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন পাসের সময় আপত্তি তোলা হয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ পুনঃপ্রচলন বিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল। অন্যদিকে, সন্ত্রাস বিরোধী আইন (সংশোধন) বিল উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আইনটিতে কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা পর্যালোচনার জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল। তবে সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সেই সময় মঞ্জুর করা হয়নি।
