আরপিওসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ অধ্যাদেশ সংসদে পাস
'রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার (আরপিও) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬' সহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ছয়টি অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাস করেছে জাতীয় সংসদ। এছাড়া একটি অধ্যাদেশ রহিত করার উদ্দেশ্যে উত্থাপন করা হলে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে সেটিও পাস হয়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওই ৬টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন। এছাড়া একটি অধ্যাদেশ রহিত করার প্রস্তাবও পেশ করেন তিনি। এদিন আইনমন্ত্রী আরও তিনটি বিল উত্থাপন করেন, যেগুলোর বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা 'নোট অব ডিসেন্ট' (আপত্তি) দিয়েছেন। বিলগুলো নিয়ে আলোচনার পর অনুমোদনের জন্য পুনরায় তোলা হবে।
এদিন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু 'ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা'র উদ্দেশ্যে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি অধিকতর আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য গত ২ এপ্রিল রিপোর্ট দেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসেবে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এগুলো পাস করতে হবে। আজ রিপোর্টের ওই ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০টি অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন করা হয়।
জাতীয় সংসদে আজ যে বিলগুলো পাস হয়েছে সেগুলো হলো— 'ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০২৬', 'রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬', 'নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) আইন-২০২৬', 'নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬', 'জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬', 'জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ আইন-২০২৬' এবং 'বাংলাদেশ ল অফিসার্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬'।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের আপত্তি থাকায় 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন-২০২৬', 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬' এবং 'সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২ (রহিতকরণ) আইন-২০২৬' বর্তমানে আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইনের অধীনে 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫' এবং 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬' অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলোচনা শেষে এই বিলগুলো পাসের জন্য আবারও উত্থাপন করা হবে।
আজকের অধিবেশন শেষে ডেপুটি স্পিকার সংসদ কার্যক্রম আগামীকাল ৭ এপ্রিল সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মূলতবি ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ও বিকাল—দুই দফায় সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
