সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩২ করে সংসদে বিল পাস
সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। এর পাশাপাশি আজ সংসদে পাস হয়েছে 'সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ বিল ২০২৬'।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন মন্ত্রী বিল দুটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা 'হ্যা' বলে পাশের পক্ষে সম্মতি দেন।
সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ ও পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ সকল স্ব-শাসিত সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর করার লক্ষ্যে নতুন বিলটি পাস হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছিল, যা এখন আইন হিসেবে পাস হলো।
বিলটি পাসের পর প্রতিক্রিয়ায় সরকারদলীয় চিফ হুইপ বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল। আমরা সেই আইনটি পাস করলাম, কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা পাসের সময় 'হ্যা' বলেননি। জুলাই যোদ্ধারা এখানে উপস্থিত রয়েছেন।'
সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ
সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ বিল সংশোধনীর মাধ্যমে 'সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ'-এর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা, ছুটি বা যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কর্মে অনুপস্থিত থাকা, অথবা কোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধাগ্রস্ত করাকে 'অসদাচরণ' হিসেবে গণ্য করা হবে। মূলত সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনানুগত্য ও বিশৃঙ্খলা রোধে এই বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে 'সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫'-এর অধীন শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত আগের বিধানগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মূলত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন ও জারি করা হয়। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ২৫ মে এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল।
