পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর ২৪০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা ড্রোন নিখোঁজ
নিজেদের অন্যতম দামি ও আধুনিক একটি ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত ৯ এপ্রিল 'এমকিউ-৪সি ট্রাইটন' মডেলের এ ড্রোন পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয় বলে গত মঙ্গলবার নৌবাহিনীর সেফটি কমান্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইট রাডার ২৪'-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর পারস্য উপসাগরের ওপর নিখোঁজ হয়। এটি হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে ওড়ার সময় হঠাৎ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত ৯ হাজার ফুটে নেমে আসে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ফ্লাইট ডাটায় দেখা যায়, ওড়ার সময় ড্রোনটি '৭৪০০' সংকেত পাঠাচ্ছিল, যার অর্থ ড্রোনটির সঙ্গে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল বা চালকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর প্রায় ৭০ মিনিট পর এটি '৭৭০০' সংকেত পাঠায়, যা জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। সবশেষে ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
মার্কিন নৌবাহিনী ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি।
ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নরথ্রপ গ্রুম্যান এমকিউ-৪সি ট্রাইটনকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সামুদ্রিক গোয়েন্দা নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ড্রোন হিসেবে বর্ণনা করেছে। শক্তিশালী জেট ইঞ্জিনচালিত এই ড্রোনটি একবার উড়লে টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে এবং এর পাল্লা প্রায় ৮,৫০০ মাইল।
মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে থাকা বিরলতম এই ড্রোনটি এ পর্যন্ত মাত্র ২০টি তৈরি করা হয়েছে। এর একেকটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার, যা একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫সি স্টিলথ যুদ্ধবিমানের দামের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
