জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না: চিফ হুইপ
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, একজন রিকশাচালকের রিকশা চালানোর অধিকার, একজন কৃষকের চাষাবাদের অধিকার এবং তাঁদের ঘাম ও শ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন পাওয়াই হলো স্বাধীনতার স্বাদ। মূলত প্রকৃত স্বাধীনতা মানে হলো জনগণের রুটি-রুজির অধিকার ফিরে পাওয়া।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, "দীর্ঘ সময় গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামের পর দেশের জনগণ স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসনের একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মানুষ ভালো থাকায় বিএনপিকে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।"
দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, "স্বাধীনতার পর এ দেশে মানুষ অনাহারে থেকেছে। দুর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তির বমি আরেক ব্যক্তি খেয়েছে। মা ছেলেকে লাশ বানিয়ে ভিক্ষা করত। ঠিক সে সময়েই আবার শেখ কামালকে মুকুট পরিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু ছিল না। বাবাকে বাধ্য করা হয়েছে ছেলের মাথায় কুড়াল চালাতে, যুবলীগের ছেলেরা লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র পেত এবং পথে-ঘাটে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যেত। এমন পরিস্থিতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের চাপে দেশের দায়িত্ব নেন। তাঁর খাল খনন কর্মসূচির ফলে মাত্র তিন বছরের মাথায় দেশে খাদ্য সংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সেনেগালে খাদ্য রপ্তানি করেছিল।"
'জুলাই জাতীয় সনদ' প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না। বিএনপি এই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "তারা একের পর এক অবস্থান বদলাচ্ছে। কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে। নির্বাচনের আগে তারা পিআর (অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চেয়েছিল। অথচ আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা আমাদের পাশের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এই ব্যবস্থা নেই। তারা বলেছিল পিআর না দিলে নাকি নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা তখন স্পষ্ট বলেছি, কোনো বিশেষ অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে দেশের নির্বাচন আটকে রাখা যাবে না।"
শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাকে অরক্ষিত রেখে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তারই দল আওয়ামী লীগ দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, "তারেক রহমান টাকা চুরি করতে আসেননি। তিনি একজন সাশ্রয়ী মানুষ, যিনি নিজের অফিসে সেন্টাল এসি চালান না এবং রাত ৩টায় ফোন করলেও তাঁকে পাওয়া যায়। তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন এবং প্রস্তাব রেখেছেন যে, দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।"
জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, "স্বাধীনতার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি পৃথিবীর একমাত্র সামরিক শাসক যিনি মার্শাল ল' জারি করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। যার ফলে বর্তমান সময়ে এত মিডিয়া সচল রয়েছে। তাঁর দেওয়া স্বাধীনতার ফলেই বিনা বাধায় মানুষ এখন তারেক রহমানের ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন আঁকতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাঁর সমালোচকদের প্রশংসা করেন।"
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়বার দেশে অন্ধকার নেমে এলে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তখন মানুষের ভাগ্য বদলাতে থাকে এবং দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হয়। বেগম জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভালো থাকল এবং কেন দেশের উন্নতি হলো—শুধু এই কারণেই আমরা ১৭ বছর ভয়াবহ অত্যাচার ও নিপীড়ন সহ্য করেছি। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পর জয়লাভ করে নিজে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়ে দেখা করার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনি জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
