পুলিশের চোখে পলাতক, অথচ আদালত থেকে জামিন নিলেন বড় সাজ্জাদের ২ সহযোগী
চট্টগ্রামের আলোচিত জোড়া খুন মামলার দুই অন্যতম আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এবং বোরহান উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাদের হন্যে হয়ে খুঁজলেও তারা ছিলেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তবে পুলিশি গ্রেপ্তার এড়িয়ে পলাতক অবস্থাতেই এই দুই আসামি উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছেন। প্রায় দুই মাস পর বাকলিয়া থানায় আদালতের আদেশের কপি পৌঁছালে বিষয়টি জানাজানি হয়। আলোচিত এই দুই সন্ত্রাসীর জামিন পাওয়ার ঘটনাকে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান মোবারক ও বোরহান। তবে সংশ্লিষ্ট থানায় সেই আদেশের কপি পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় দুই মাস। গত ২৯ মার্চ আদেশের কপি পাওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, আসামিরা জামিনে রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া টিবিএসকে বলেন, 'আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এর মধ্যেই তারা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হয়েছে।'
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ইমন ও বোরহান সন্ত্রাসী 'বড় সাজ্জাদ' হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সাজ্জাদ আলী বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তার হয়ে এই দুজন নগরে চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন।
২০২৫ সালের ৩০ মার্চ রাতে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে একটি প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এতে বখতিয়ার হোসেন ও মো. আবদুল্লাহ নামে দুজন নিহত হন। তারা মূলত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার অনুসারী ছিলেন। ওই হামলায় গাড়িতে থাকা সরোয়ার বেঁচে গেলেও একই বছরের ৫ নভেম্বর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই ভয়াবহ হামলার ছক আঁকা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কেবল জোড়া খুন নয়, চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত একাধিক চাঞ্চল্যকর খুন ও চাঁদাবাজির সঙ্গে এই দুই আসামির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। 'ঢাকাইয়া আকবর' নামে পরিচিত আকবর আলী হত্যাকাণ্ডেও তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া অতি সম্প্রতি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসভবনে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দফা গুলি চালানোর ঘটনায় এই চক্রটির নাম এসেছে। মূলত ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করেই এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজর এড়াতে সক্ষম হওয়া এই আসামিরা কীভাবে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জামিন নিলেন, তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার এই বিষয়ে বলেন, 'সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা পুলিশের দায়িত্ব। তারা যেহেতু জামিন নিয়েছে, এখন রাষ্ট্রপক্ষ আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারে।'
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, জামিনের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
