শিডিউল অনুযায়ী জ্বালানি তেল এলেও চট্টগ্রামে অধিকাংশ পাম্প বন্ধ, কোথাও রেশনিংয়ে বিক্রি
চট্টগ্রাম নগরীতে ডিপো থেকে শিডিউল অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হলেও বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে বা রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছে। এতে নগরজুড়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গত ১৫ মার্চ সরকারিভাবে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনো চালু রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকেরা।
তাদের ভাষ্য, অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করছেন। এতে স্টেশনগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ডিপো থেকে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ না পাওয়ায় পাম্পগুলোতে সংকট তৈরি হচ্ছে। কয়েকদিন পরপর তেল আসায় সব সময় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
রোববার (৫ এপ্রিল) নগরীর কিউসি পাম্পে ডিপো থেকে ১৩ হাজার লিটার অকটেন ও ৯ হাজার লিটার ডিজেল এসেছে। তবে সংকটের সময়ে বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় মজুদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, সিএমপি ফিলিং স্টেশনে বিকেলে ২ হাজার ৩৬৩ লিটার ডিজেল ও ২ হাজার ৫৭৪ লিটার অকটেন মজুদ ছিল এবং বিক্রি চলছিল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন টিবিএসকে বলেন, "আমাদের স্টেশনে তেলের কোনো সংকট নেই। ডিলাররা চাহিদা অনুযায়ী যতটুকু তেল দিচ্ছেন, আমরা ততটুকুই বিক্রি করছি। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে স্টেশনে একজন করে ট্যাগ অফিসার রাখা শুরু হয়েছে।
"তবে সংকটের মূল কারণ হলো, অনেকে প্রয়োজনের বেশি তেল নিচ্ছেন এবং তা মজুদ করছেন। বাসায় অতিরিক্ত তেল রাখায় পাম্পগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। মানুষ সচেতন হলে স্টেশনগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসবে।"
সিএমপি ফিলিং স্টেশনে সরকারি গাড়িগুলোতে ঠিকমতো তেল দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার এবং কার ও জিপে ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
নগরীর গণিবেকারি এলাকার কিউসি ফিলিং স্টেশনেও একই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেখানে মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার এবং কার, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২ হাজার টাকার তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, লাভ লেইন সড়কের অ্যাপোলো ফিলিং স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সেখানে বিক্রয়কর্মীরাও উপস্থিত নেই। ওয়াসা মোড়ের পাম্পেও সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
পাম্প মালিকেরা বলছেন, "ডিপো থেকে যতটুকু তেল আসছে, আমরা ততটুকুই বিক্রি করছি। গ্রাহকদের তেল না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণেই রেশনিং পদ্ধতিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় অনেক পাম্পে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা।
পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আবদুর রহমান বলেন, "অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি, তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে।"
নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন বলেন, "শিডিউল অনুযায়ী তেল আসলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম সরবরাহের কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।"
