বেতন-বোনাসের দাবিতে কুমিল্লায় শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে ২ ঘণ্টা পর যান চলাচল শুরু
বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেডের শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ কর্মসূচি চলে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন মাস ধরে তাদের বেতন দিচ্ছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। একেকজন শ্রমিকের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া পরিশোধের দাবিতে বারবার আবেদন করেও ফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে মহাসড়কের কুটম্বপুর থেকে নুরীতলা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম, চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান এবং ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বেতন ও বোনাস পরিশোধের নিশ্চয়তা দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমরা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছি যে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে জানুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। এছাড়া ১৬ মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়া হবে।'
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বেতন-ভাতার দাবিতে একাধিকবার মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন এই কারখানার শ্রমিকরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে না পারা এবং ক্রমবর্ধমান শ্রমিক অসন্তোষের কারণে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ৬০ শতাংশ কর্মী ইতোমধ্যে চাকরি ছেড়েছেন বা কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং মালিকপক্ষের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
