কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার একাধিক, কাল র্যাবের সংবাদ সম্মেলন
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ও সন্ধ্যায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে র্যাব-১১-এর সেক্টর কমান্ডার মেজর সাদমান ইসলাম গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা নিশ্চিত করেননি।
তিনি জানান, এ বিষয়ে আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
এর আগে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী।
এদিকে আজ সকালে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে তার প্রিয় কর্মস্থলে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। অশ্রুসজল নয়নে সহকর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় প্রিয় সহকর্মীকে চিরবিদায় জানান। এসময় স্বজন ও সহকর্মীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে কাস্টমস অফিসের পরিবেশ।
আগামীকাল এক বছরে পা দেওয়ার কথা বুলেট বৈরাগীর শিশুপুত্র অব্যয় বৈরাগীর। সন্তানের প্রথম জন্মদিনের ঠিক দুদিন আগেই স্বামীকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন স্ত্রী উর্মী হীরা।
নিহত বুলেট বৈরাগীর মা নীলিমা বৈরাগী অভিযোগ করে বলেন, 'আমার ছেলের মৃত্যু কোনোভাবেই দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।' তিনি খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কুমিল্লার কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনার আব্দুল মান্নান সরদার জানান, বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণে যোগ দিতে তিনি চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোন করে জানান, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাস্টমস অফিস সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ইসতিয়াক হাসান আমিন জানান, ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনের আইরিশ হোটেলের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। মৃতদেহের জখম দেখে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
