কুমিল্লায় দুই গ্রুপের মধ্যে তিনদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ: আহত ৩০
কুমিল্লা মহানগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তিন দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা গেছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। টানা তিন দিনের এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত চলে এই সংঘর্ষ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সহিংসতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ রোববারও ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ মাথায় হেলমেট পরে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছে। তাদের কারো হাতে ছিল বড় রামদা, আবার কাউকে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ চর্থার থিরা পুকুরপাড় ও জিনা পুকুরপাড় পাশাপাশি এলাকা। দুই এলাকার তরুণদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে এই বিবাদের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারাও এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে এই বিরোধ জিনা পুকুরপাড়ের 'নয়ন গ্রুপ' ও থিরা পুকুরপাড়ের 'স্বপন গ্রুপ'-এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ নেয়। দফায় দফায় হামলা, পাল্টা ধাওয়া ও গুলির ঘটনায় দুই পুকুরপাড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, 'আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।'
