মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যার তদন্তে ত্রুটি, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ১২ মার্চ
রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ মার্চ তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় অধিকতর (পূর্ণাঙ্গ) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। আজ মামলাটির অধিকতর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এদিনও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ মামলার অধিকতর তদন্তের সময়সীমা ১৫ কার্যদিবস বাড়ানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি সাবেক অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মনিরুজ্জামান তদন্ত শেষে গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হওয়ায় পুলিশ প্রবিধান ৪৪৪ বিধি মোতাবেক মামলার তদন্তে ত্রুটি-বিচ্যুতি সংক্রান্তে ব্রিফ করেন।
মামলাটির ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের লক্ষ্যে অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের স্বার্থে মামলা তদন্তের সময়সীমা ১৫ কার্যদিবস বর্ধিত করা একান্ত প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে এলোপাতাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
ওই ঘটনায় পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। এছাড়াও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী এ কর্মকর্তা।
এদের মধ্যে ১৩ আসামি কারাগারে ও ৮ আসামি পলাতক রয়েছেন। নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত মিটফোর্ড এলাকার রজনি ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।
