ঝিনাইদহে পরিত্যক্ত ঘরে মেছো বিড়ালের দুই বাচ্চা রক্ষায় এগিয়ে এলেন প্রকৃতিপ্রেমীরা
ঝিনাইদহের মহেশপুরে একটি বসতবাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়ালের দুটি বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে বাচ্চা দুটিকে এক নজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। তবে স্থানীয়দের সচেতনতা ও সময়োচিত উদ্যোগে প্রাণী পরিবারটি বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার শ্যামকর ইউনিয়নের জেলেপোতা গ্রামের শাহিন ইসলামের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে খড়ের মাচা ছিল। সেখানে মা মেছো বিড়ালটি নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আনুমানিক ১০-১২ দিন আগে দুটি বাচ্চার জন্ম দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের কিশোর-কিশোরীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী ও প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বোঝান যে, মেছো বিড়াল কোনো ক্ষতিকর প্রাণী নয় বরং এটি একটি উপকারী প্রাণী। তিনি বলেন, 'নবজাতক বাচ্চা দুটি অত্যন্ত ছোট এবং সম্পূর্ণভাবে মায়ের দুধের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় তাদের স্থানান্তর করলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়বে। বাচ্চা দুটি নিজে থেকে খাওয়া শুরু ও চলাফেরা করতে পারলে তারা আপনাআপনিই প্রকৃতিতে ফিরে যাবে।'
পরবর্তীতে তিনি বন্যপ্রাণী ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। এর মধ্যে রয়েছেন খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী, যশোর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল এবং মহেশপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।
মহেশপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, 'বাচ্চাগুলো অনেক ছোট। মা মেছো বিড়াল উপস্থিত থাকায় সেখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। নির্দিষ্ট সময়ে মা নিজেই তার বাচ্চাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাবে। স্থানীয়দের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। মেছো বিড়াল একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী এবং এ প্রাণী হত্যা বা ক্ষতিসাধন করা জামিন অযোগ্য অপরাধ। বাচ্চা দুটির বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।'
বর্তমানে মেছো বিড়ালের বাচ্চা দুটি শাহিন ইসলামের বাড়ির ওই পরিত্যক্ত কক্ষেই রয়েছে এবং বাড়ির মালিকরাই সেগুলোর দেখাশোনা করছেন। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাদের এই ইতিবাচক ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।
