মুন্সীগঞ্জ-১: বিএনপির ৮ নেতাকে বহিস্কার, প্রতিবাদে ৫ নেতার পদত্যাগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদীখান) আসনের বিএনপি ও মহিলা দলের ৮ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন—জেলা বিএনপির সদস্য দেলোয়ার হোসেন, তাজুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন উজ্জল, জসিম মোল্লা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সেলিনা আক্তার বীনা, সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ভুইয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ এবং কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের।
এ নিয়ে গত কয়েকদিনে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার মোট ১৩ জন বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হলো। এর আগে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন এবং মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মমিন আলীকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানা, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর ফকির এবং জেলা বিএনপির সদস্য মজিবুর রহমানকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে, মুন্সিগঞ্জে নেতা-কর্মীদের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল থেকে বহিষ্কারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপির ৫ নেতা পদত্যাগ করেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের পঞ্চসার এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন তারা।
পদত্যাগকারী নেতারা হলেন—শহর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম স্বপন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেন সরকার, মাহবুবুর রহমান, আতাউর হোসেন বাবুল এবং কাজী আবু সুফিয়ান বিপ্লব। পদত্যাগকারী এই ৫ নেতা মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে জানান, কেন্দ্র থেকে ক্রমাগত জেলার নেতৃবৃন্দকে বহিস্কার করা হচ্ছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও দলীয় গঠনতন্ত্রের বাইরে এসব বহিস্কার আদেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হামলা-মামলার শিকার হলেও দলের জন্য কাজ করা শীর্ষ নেতৃত্বদের বহিঃস্কার করা হচ্ছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে তারেক রহমান ডাকলে তারা ফিরবেন বলেও জানান তারা।
অন্যথায় ধারাবাহিকভাবে নেতা-কর্মীদের পদত্যাগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি দেওয়া হয়।
