নির্বাচনে বিএনপির জয় ও দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশ পুনর্গঠনে ১৯৭১ সাল ও 'জুলাই অভ্যুত্থানের' মতো আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে এক থাকার কথা বলেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়য়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতা রক্ষায় ছাত্র-জনতা আবারও এগিয়ে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ এবং ২০২৪—উভয় সময়েই মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে।
সমবেত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, 'আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা যদি এক থাকি, তবে যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং স্বৈরাচার হটিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে পারব।'
পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তাদের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপির বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাদের দুজন সংসদ সদস্য পদত্যাগ না করে পুরো মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা প্রমাণ করে বিএনপি দুর্নীতিকে সমর্থন করে না।
তারেক রহমান বলেন, 'তারা বলে—বিএনপি ছিল দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন। আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তাদের দুজন সদস্য তো বিএনপি সরকারের অংশ ছিল। যদি বিএনপি এতটাই খারাপ হতো, তাহলে ওই দুইজন কেন পদত্যাগ করলেন না? কেন তারা সরে দাঁড়ালেন না?'
তিনি বলেন, তারা পদত্যাগ করেননি, কারণ সরকারের ভেতরে যারা ছিলেন, তারা জানতেন, খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।
সমাবেশে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার ২৪ জন বিএনপি প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'এই ২৪ জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম। এই চার জেলার উন্নয়ন করার তাদের হাতে ধানের শীষ দিয়ে তাদেরকে আমি দায়িত্ব দিয়েছি। এখন তাদের কাছ থেকে আপনাদের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।'
দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সড়কপথে ময়মনসিংহে পৌঁছান তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
চার জেলা থেকে আসা হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক দুপুরের পর থেকেই সার্কিট হাউস মাঠে জড়ো হতে থাকেন।
মঞ্চে ওঠার আগে জুলাই অভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি প্রধান। তিনি তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান এবং সমবেদনা জানান।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যথারীতি ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, ভোটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে। কেউ যাতে ভোট লুটপাট করতে না পারে, পাহারা দিতে হবে।
তারেক রহমান এ সময় বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশ, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ করা হবে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে দলটির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড ও কর্মসংস্হান নিয়ে পরিকল্পনাও সমাবেশে তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
