গুজব মোকাবিলা ও তৃণমূলকে সক্রিয় করতে বিএনপির মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু
সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্থবিরতা দূর, গুজব প্রতিরোধ ও সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে দলের তৃণমূলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে সারাদেশে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি।
এই উদ্যোগের আওতায় জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সমন্বিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ইস্যুতে বিএনপিকে 'সংস্কারবিরোধী' হিসেবে তুলে ধরার প্রচারণার জবাব দিতে লিফলেট বিতরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ মে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের সব জেলা ও মহানগরের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বিএনপি এবং দলীয় গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের কথাও এতে বলা হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। তবে নতুন নির্দেশনার উদ্দেশ্য হচ্ছে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত করা।
তিনি বলেন, 'থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে সাংগঠনিক সভা ও কর্মীসভা করা হবে।' সম্প্রতি এক বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে রিজভী আরও বলেন, 'পার্টি অফিস থেকেও আমরা নির্দেশনা দিয়েছি।'
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলোর ছড়ানো বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মোকাবিলা করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি জনগণের সামনে 'সঠিক চিত্র' তুলে ধরা, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং নিজেদের রাজনৈতিক বয়ানকে আরও শক্তিশালী করার কৌশলও নিয়েছে দলটি।
সূত্রটি আরও জানায়, সরকার গঠনের পর দলে এক ধরনের সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং দল ও সরকারের কার্যক্রম একীভূত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি প্রশাসন থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডকে আলাদা করা এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির মধ্যে থাকবে উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ, মতবিনিময় সভা, মিছিল এবং সরাসরি গণসংযোগ। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব ইউনিট নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে ইতোমধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রের চিঠি হাতে পেয়েছেন তারা এবং জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর 'ভুল তথ্য প্রচারের' বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে 'নোট অব ডিসেন্ট' বাদ দিয়ে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের পক্ষে জনমত তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলাজুড়ে জুলাই সনদবিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হবে এবং সমাবেশও আয়োজন করা হতে পারে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম তুহিন বলেন, দুটি ধরনের লিফলেট বিতরণ করা হবে। একটি লিফলেটে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হবে। অন্যটিতে সরকারের ৮০ দিনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ থাকবে। তিনি বলেন, প্রস্তুতির কাজ চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমাবেশ আয়োজন করা হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, ২৪টি থানা ও ৮০টি ওয়ার্ডের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কর্মসূচির ধরন ও সময়সূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের আগে কিছু ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মসূচি পালন করা হবে এবং বাকি কার্যক্রম ঈদের পর চলবে। বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ৯ মে ঢাকায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূল নেতাদের জনগণের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর নির্দেশ দেন। লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণকে জানাতে বলেন তিনি। একইসঙ্গে থানা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করে সেগুলোর প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনাও দেন।
