সংরক্ষিত নারী আসনের ২০ শতাংশ সংসদ সদস্যের ঋণ রয়েছে: সুজন
নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর মতে, ১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন নবনির্বাচিত সদস্যের মধ্যে ১০ জনের (২০ শতাংশ) ঋণ ও দায়-দেনা রয়েছে। অপরদিকে ৩৭ জন সংসদ সদস্য (৭৪ শতাংশ) ১ কোটি টাকার বেশি সম্পদের অধিকারী।
তবে এই হিসাবের মধ্যে এমপিদের উপর নির্ভরশীলদের সম্পদও রয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল (৭ মে) আয়োজিত "১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন" শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলিপ কুমার সরকার, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ঋণের তথ্য উপস্থাপন করে দিলীপ বলেন, নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১০ জনের (২০ শতাংশ) ঋণ ও দায়-দেনা রয়েছে। এই ১০ জন ঋণগ্রহীতার মধ্যে কোটি টাকার অধিক ঋণ ও দায়-দেনা রয়েছে চার জনের (৪০ শতাংশ)। এই চারজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাম আসা শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতা হলেন বিএনপির সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, শাকিলা ফারজানা, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম ও ফাহিমিদা হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবিকুন নাহার মুন্নি ও মারদিয়া মমতাজ।
সুজন আরও জানিয়েছে, নির্ভরশীলদের আয়সহ ৫০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে শীর্ষ ১০ জন উপার্জনকারীর সবাই বিএনপি থেকে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৪ জন ১ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক আয়ের তথ্য দিয়েছেন।
শীর্ষ উপার্জনকারীদের মধ্যে রয়েছেন শামীমা আরা বেগম স্বপ্না, জহরত আদিব চৌধুরী, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, আন্না মিঞ্জ, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম, নিপুণ রায় চৌধুরী, বিথিকা বিনতে হোসাইন এবং সেলিমা রহমান।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১৩ জন বছরে পাঁচ লাখ টাকা বা তার কম আয় করেন, ১৯ জন পাঁচ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে আয় করেন, পাঁচ জন ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে এবং দুই জন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন। সাতজন সংসদ সদস্য আয়ের তথ্য প্রকাশ করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন সংরক্ষিত আসনের জন্য সরাসরি নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব দেয় এবং অভিযোগ করে যে অনেক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে অসম্পূর্ণ হলফনামা জমা দিয়েছেন। সুজন জানিয়েছে, অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া একপ্রকার হলফনামায় তথ্য গোপন করা।
সংগঠনটি বলেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৭৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত, যাদের মধ্যে ৩০ জনের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৪ জনের স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন উচ্চ মাধ্যমিক, একজন মাধ্যমিক পাস করেছেন এবং দুইজন নিজেদের স্বশিক্ষিত হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, আর একজন শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রকাশ করেননি।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১৩ জন আইনজীবী, ১০ জন ব্যবসায়ী, চারজন শিক্ষক, একজন চাকরিজীবী এবং পাঁচজন গৃহিণী। বর্তমানে ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে এবং অতীতে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা ছিল।
মনোনয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈষম্য তুলে ধরে দিলীপ বলেন, ঢাকা বিভাগ যেখানে ১৩টি জেলা রয়েছে সেখান থেকে সংরক্ষিত আসনের ১৯ জন সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছেন, যেখানে রংপুর বিভাগ ৮টি জেলা থাকা সত্ত্বেও মাত্র দুটি মনোনয়ন পেয়েছে। তিনি বলেন, সব জেলাকে সমানভাবে বিবেচনা করা হলে অন্তত ৫০টি জেলার প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারত।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর সর্বোত্তম উপায় হবে ভারতের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মতো ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সরাসরি নির্বাচন করা। তিনি হলফনামা সঠিকভাবে যাচাই করতে এবং প্রার্থীদের আয়কর রিটার্ন জমা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের সমালোচনাও করেন।
