তামিলনাড়ুতে টানটান নাটকীয়তা: সরকার গঠনের দাবি নিয়ে ফের গভর্নরের কাছে থালাপতি বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সরকার গঠন নিয়ে নাটকীয়তা চলছেই। প্রথম নির্বাচনে বাজিমাত করে ১০৮ আসন জিতে নিলেও অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয় সরকার গঠন করতে পারছেন না একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়। সরকার গঠনে প্রয়োজন ১১৮ বিধায়কে, কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে ১১২ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে পেরেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজয়। কিন্তু গভর্নর তাকে ১১৮ জনের সমর্থনের প্রমাণ দেখাতে বলেছিলেন।
সর্বশেষ আজ বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে যে বিজয়ের দল টিভিকে প্রস্তুত, সে কথা গভর্নরকে জানানো হয়েছে। গভর্নর সেই প্রমাণ চাওয়ার পরই তামিলনাড়ুর লোক ভবনে গিয়ে তার সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেছেন বিজয়।
অন্যদিকে বিজয় যখন জোটসঙ্গী জোগাড়ে মরিয়া, তখনই রাজ্যটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এআইএডিএমকের সঙ্গে ব্যাকচ্যানেলে আলোচনা শুরু করেছে এতদিনের ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে। সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে বলছে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে 'জাতশত্রু' দুই দলের এমন জোট গঠনের আলোচনা নজিরবিহীন। আরেক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসও সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, বিজয়ের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে না পারলে হাত মেলাতে পারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইএডিএমকে।
দুই দলের সূত্রেরই খবর, এআইএডিএমকে যাতে সরকার গড়তে পারে, সেজন্য বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ডিএমকে। পাশাপাশি ছোট দলগুলোর সমর্থন পাওয়ারও চেষ্টা চলছে। সূত্র বলেছে, 'আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিভিন্ন শিবিরের অভ্যন্তরীণ বৈঠক ও নেতাদের আলোচনা বলছে, এই সম্ভাবনা আর নিছক জল্পনার পর্যায়ে আটকে নেই।'
প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের জেরে ১৯৭২ সালে তৎকালীন ডিএমকে সভাপতি এম করুণানিধি দল থেকে বহিষ্কার করেন এম জি রামচন্দ্রন বা এমজিআর-কে। পরে এআইএডিএমকে প্রতিষ্ঠা করেন এমজিআর। সেই বিভাজনই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দুই দ্রাবিড় দলের কয়েক দশকের তীব্র দ্বৈরথের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয়।
দুই শিবিরের জোট বাঁধার জল্পনা আরও উসকে দিয়েছেন ডিএমকে নেতা এসএএস হাফিজুল্লাহ। সমাজমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন: 'আপনারা যে খবর শুনতে চলেছেন, সেটি তামিলনাড়ু ও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে।'
এর আগে গতকাল (৬ মে) দিনের শুরুতে এক নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটে। সরকার গঠনের দাবি জানাতে তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র আর্লেকারের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। কিন্তু তিনি ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিয়েছেন। এজন্য তাকে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ নিয়ে ফের দেখা করতে বলেছেন রাজ্যপাল।
৫ জন বিধায়ক থাকা কংগ্রেস বিজয়কে সমর্থন জানালেও তিনি নাকি কেবল মৌখিকভাবেই সে কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড়ের জন্য তিনি সময় চেয়েছেন।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় প্রথমবার লড়েই ১০৮ আসনে জিতে চমক দিয়েছে টিভিকে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তাদের এখনও ১০টি আসন দরকার। জোটসঙ্গীরাও এখনও চূড়ান্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে 'কিংমেকার' হয়ে উঠতে পারে ভিসিকে (ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি)। কিন্তু নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছে দলটি।
বুধবার রাত পর্যন্ত টিভিকে নেতাদের ধারণা ছিল, বিজয় আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন; পরে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য তাকে কিছুটা সময় দেওয়া হবে। কিন্তু গভর্নরের কড়া অবস্থানের কারণে সরকার গঠনের অঙ্কে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, সেই ফাঁকে মাঠে নেমেছে পুরনো দ্রাবিড় দল দুটি। সূত্রের খবর, এআইএডিএমকের পক্ষ থেকেই প্রথম প্রস্তাবটি দেওয়া হয় এবং ডিএমকে তা সঙ্গে সঙ্গে নাকচ করেনি।
এদিকে বাম দলগুলোও (সিপিএম ও সিপিআই) এখনও বিজয়কে সমর্থনের কথা জানায়নি। আগামীকাল (৮ মে) পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে তারা। বাম ও ভিসিকে—উভয়েই ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক। সূত্র জানিয়েছে, তারা যে পক্ষ বদলাবে না, সে বিষয়ে ডিএমকে নেতৃত্ব যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
