ইস্তফা দেব না, চাইলে বরখাস্ত করুক, দিনটি ইতিহাসের পাতায় 'কালো দিন' হয়ে থাকুক: মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়েছে। অথচ এখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার (৬ মে) কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধানের বাসভবনে আয়োজিত বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গের লোকভবনে গিয়ে পদত্যাগ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
সূত্রের খবর, মমতা বৈঠকে বলেছেন যে, তিনি নিজে থেকে ইস্তফা দেবেন না; যদি রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন কার্যকর হয়, তবে তাই হোক। তিনি চান বিষয়টি রেকর্ড হয়ে থাকুক। প্রয়োজনে তাকে বরখাস্ত করা হোক এবং সেই দিনটি ইতিহাসের পাতায় একটি 'কালো দিন' হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকুক বলে দাবি করেন তৃণমূল প্রধান ।
পশ্চিমবঙ্গের লোকভবনে গিয়ে যে তিনি ইস্তফা দেবেন না, তা মঙ্গলবারই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন তিনি বলেন, 'কেন, কীসের জন্য? আমরা তো হারিনি যে যাব। হারলে আমি যদি শপথ নিতে যেতাম, তাহলে আমি রেজিগনেশনটা করতাম। এখন তো কোয়েশ্চেন ডাস নট অ্যারাইজ। জোর করে দখল করে যদি কেউ মনে করে যে আমায় গিয়ে রেজিগনেশনটা দিতে হবে - নো, নট দ্যাট। আমি এখনও বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে হারিনি। জোর করে আমাদের হারানোর জন্য ওদের চেষ্টা এটা।'
যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করেন, তবে দেশটির সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমত— রাজভবন থেকে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে গভর্নর সরাসরি সরকারকে বরখাস্ত করতে পারেন। দ্বিতীয়ত— গভর্নর সরাসরি বরখাস্ত না করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার নির্দেশ দিতে পারেন। সেখানে যদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় (যা বর্তমান নির্বাচনি ফলের নিরিখে প্রায় নিশ্চিত), তবে ইস্তফা দেওয়া ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করা রাজ্যে একটি 'সাংবিধানিক অচলাবস্থা' তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে গভর্নর সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। আর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া মানেই রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাওয়া এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পদের বিলুপ্তি ঘটা।
