সরকার গড়তে ১১২ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে গেলেন থালাপতি, গভর্নর বললেন ‘১১৮ নিয়ে আসুন'
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবি জানাতে রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র আর্লেকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তামিঝাগা ভেট্রি কঝগম (টিভিকে)-এর প্রধান ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়। এ সময় তিনি ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিলেও গভর্নর জানিয়েছেন, সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
এর পর প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা জোরদার করেছে বিজয়ের দল।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ৫ জন বিধায়ক থাকা কংগ্রেস বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বিজয় রাজ্যের গভর্নরের কাছে মৌখিকভাবে এই সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আরও সময় চেয়েছেন।
ভারতের সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিধানসভায় কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে গভর্নর তার বিবেচনায় যেকোনো ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে 'হাং অ্যাসেম্বলি' পরিস্থিতিতে একক বৃহত্তম দলের নেতাকে সংখ্যালঘিষ্ঠ সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার নজির রয়েছে।
এর একটি উদাহরণ ২০১৮ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচন। সে সময় বিজেপি ১০৪টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হলেও ১১৩ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। কংগ্রেস ও জেডি(এস) যথাক্রমে ৮০ ও ৩৭টি আসন পায়। তৎকালীন গভর্নর বাজুভাই ভালা বিজেপি নেতা বি. এস. ইয়েদিউরাপ্পাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আস্থা ভোটে অংশ নিতে হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে সরকার পদত্যাগ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব দৃষ্টান্ত বিবেচনায় নিয়ে তামিলনাড়ুর গভর্নর আর্লেকর প্রথমে সংখ্যালঘিষ্ঠ সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন এবং পরে বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে বিজয়ের দল টিভিকে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে ১০টি কম।
তবে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে বিজয়ের সামনে এখনো জোট রাজনীতির চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ডিএমকে নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল জোটের (এসপিএ) শরিক দল 'ভিদুথলাই চিরুথাইগল কাচি' (ভিসিকে) একটি নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছে। একই জোটের বামপন্থী দলগুলোও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। আগামী শুক্রবার (৮ মে) তারা অবস্থান জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিএমকে মনে করে, তাদের মিত্ররা জোট ত্যাগ করবে না।
রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন
গত ৪৮ ঘণ্টায় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। একপর্যায়ে এআইএডিএমকে ও কংগ্রেস—উভয় দলের পক্ষ থেকেই বিজয়ের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ধারাবাহিক নির্বাচনী পরাজয়ের পর এআইএডিএমকের ভেতর থেকেও বিজয়কে সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
এদিকে, টিভিকে নেতাদের সঙ্গে এআইএডিএমকের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও তা নিশ্চিত হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে।
পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় যখন কংগ্রেস সরাসরি বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। তবে দলটি শর্ত দেয়—সংবিধানে অবিশ্বাসী বা সাম্প্রদায়িক কোনো শক্তি এই জোটে থাকলে তারা সমর্থন দেবে না। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি, বিশ্লেষকেরা এটিকে এনডিএ জোটের কিছু শরিক দলের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
কংগ্রেসের এই অবস্থান দলটির রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির জরুরি বৈঠকের পর চূড়ান্ত হয়। পরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।
বর্তমানে কংগ্রেস ডিএমকে-জোটের অন্যান্য শরিক দল—সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে ও আইইউএমএল—কে বিজয়ের পক্ষে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এরই মধ্যে বিজয়ের সম্ভাব্য শপথগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ৮ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টিভিকে ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য সমঝোতার পর ডিএমকে কংগ্রেসের সমালোচনা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে 'বিশ্বাসঘাতকতা'র অভিযোগ আনা হয়।
এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা কার্তি চিদাম্বরম বলেন, ডিএমকের এ ধরনের মন্তব্য 'দুর্ভাগ্যজনক' এবং নির্বাচনের পর জোট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝির প্রতিফলন।
