সংস্কার ছাড়াও মানুষের কল্যাণের বিষয়টি বিএনপির মাথায় আছে: নজরুল ইসলাম
সংস্কার ছাড়াও মানুষের কল্যাণের বিষয়টি বিএনপির মাথায় আছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, 'বিএনপি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা দিয়েছে। জুলাই সনদে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তার বাইরেও মানুষের কল্যাণের জন্য আরও অনেক সংস্কারের চিন্তা আমাদের মাথায় আছে।'
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নির্বাচনি প্রচারণার মিছিল শেষে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। ধানের শীষের নির্বাচনি প্রচারণা মিছিলটি সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে শুরু হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, 'বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিবর্তনের সুফল বহন করেছে বিএনপি। একদলীয় স্বৈরাশাসনের গোরস্তানের উপর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে দলটি। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশে যখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে, তখন জনগণ আবার বিএনপির ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমাদের নেতা তারেক রহমান যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ হচ্ছে। এই দেশের মানুষ বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ভালোবেসে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কারো কারো এটা পছন্দের না, তারা নানাভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা নির্বাচনে বাধা দিয়েছিল, ব্যর্থ হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'জনগণের দাবির মুখে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।'
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে নজরুল ইসলাম বলেন, ''আমরা দেখছি তারা টাকা-পয়সা খরচ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তিকে যুক্ত করে বিএনপির নামে মিথ্যা অভিযোগ ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। কিন্তু এসব করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।''
বিএনপির এই নেতা বলেন, ''ওনারা (জামায়াত নেতা) দাবি করেন, তারা নাকি ইসলামি মানুষ। তারা দম্ভ করছেন, ইসলামি শিক্ষা ভুলে গেছে। মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন অহংকারীদের। এই কারণে তাদের পতন নিশ্চিত হবে।''
আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ''নানাভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। আমরা বিশ্বাস করি জনগণ বিভ্রান্ত হবেন না। সবাই ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাবেন, জনমত সৃষ্টি করবেন। ইনশাল্লাহ আমরা বিজয়ী হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করব।''
একই কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ''দেশে চলছে ভণ্ডামি, চলছে অপপ্রচার। আপনারা 'বট বাহিনী'র কথা শুনেছেন। এই বট বাহিনীর নাম আগে আমরা শুনিনি। এই বট বাহিনী তৈরি করেছে একটি রাজনৈতিক দল—শুধু বিএনপি, বিএনপির নেতা তারেক রহমান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বক্তব্য বিকৃত করা এবং নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো ও অপপ্রচার করাই যাদের দায়িত্ব। তারা নাকি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিলেন।''
তিনি বলেন, ''খুলনার এক প্রার্থী কৃষ্ণনন্দী বলেছেন যে 'তিনি আল্লাহর দূত হয়ে এসেছেন'। জামায়াতে ইসলামের ক্ষেত্রে নাকি শুধু জান্নাতের টিকিট নয়, জামায়াতের মনোনয়ন পেলে সরাসরি আল্লাহর দূত হয়ে আসা যায়। আবার সেই কৃষ্ণনন্দীরাই আল্লাহর দূত হয়ে আসছেন—এই পরিস্থিতিই আজ দেশে চলছে ''
রিজভী বলেন, ''জামায়াতের বড় নেতা আব্দুল্লাহ তাহের, বাড়ি চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা। তিনি তার প্রথম জনসভায় সালাউদ্দিন মজুমদারকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, যিনি ২০১৫ সালের আন্দোলনে বাঁশ পুড়িয়ে আটজন মানুষকে হত্যা করেছেন, যার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে ''
তিনি বলেন, ''আপনারা যে যত অপরাধই করুক, আওয়ামী লীগ করে মানুষ পোড়াক, গাড়ি পোড়াক, হত্যা করুক—সব সাতখুন পাপ মাফ হয়ে যায়, যদি তারা জামায়াতের মঞ্চে আসে, যদি তারা জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়। এর কী জবাব দেবেন?''
বিএনপির এই নেতা বলেন, ''আজ নানাভাবে অনেক কথা বলছে জামায়াত এবং তাদের জোটেরা। অথচ তাদের প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি কথার মধ্যে ইসলামের যে নীতি—তাদের নাম তো জামায়াতে ইসলাম। আমরা যে ইসলাম সম্পর্কে জানি, যে ইসলামের চর্চা করি—সেখানে মুনাফিকি নেই। মুনাফিকি অত্যন্ত জঘন্য একটি পাপ। মিথ্যা কথা বলা বড় ধরনের পাপ, অন্যায় করাও বড় ধরনের পাপ। আজ তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মধ্যেই আমরা এসব দেখতে পাচ্ছি।''
তিনি বলেন, ''আজ শত শত আইনজীবী ধানের শীষের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে বিজয়ী করার জন্য রাস্তায় নেমেছেন। বারবার এ দেশের মানুষ ধানের শীষকে বিজয়ী করেছে। ধানের শীষ কখনো মিথ্যার পক্ষে নয়। এ দেশের জনগণ মিথ্যা, অসত্য, বেহেনসাফি ও মুনাফেকিকে কখনোই পাত্তা দেয়নি, কখনোই তার পক্ষে ছিল না।''
