ঢাকায় ইন্দোনেশিয়ার রিটেইল জায়ান্ট আলফামার্টের যাত্রা শুরু: খুলবে ১০০ আউটলেট
ইন্দোনেশিয়ার খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান 'সুম্বার আলফারিয়া ট্রিজায়া'। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় তারা তাদের কনভেনিয়েন্স স্টোর 'আলফামার্টের' প্রথম আউটলেট উদ্বোধন করেছে। তারা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে এটি উদ্বোধনের মাধ্যমে ১০০টি স্টোর খোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে তারা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করেছে।
বাংলাদেশে এই স্টোরগুলো 'আলফামার্ট ট্রেডিং বাংলাদেশ লিমিটেড' (এটিবিএল) দ্বারা পরিচালিত হবে। এটি 'সুম্বার আলফারিয়া' এবং বাংলাদেশের অন্যতম বড় পোল্ট্রি ও খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কাজী ফার্মস'-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। জাপানের 'মিতসুবিশি কর্পোরেশন' এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছে।
উদ্বোধনী দিনে এটিবিএল-এর প্রতিনিধিরা এক বিবৃতিতে জানান, কোম্পানিটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে কাজ করবে, যাতে তারা আলফামার্টের আউটলেটগুলোতে নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে পারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো 'অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা শহরজুড়ে ১০০টিরও বেশি আলফামার্ট স্টোর খোলা'।
বিলিয়নিয়ার জোকো সুসান্তো প্রতিষ্ঠিত 'সুম্বার আলফারিয়া' ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কনভিনিয়েন্স স্টোর চেইন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়াজুড়ে তাদের ২০ হাজার ৯২৫টি আউটলেট ছিল। বাংলাদেশের এই যাত্রা তাদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ। এর আগে ২০১৪ সালে তারা ফিলিপাইনে ব্যবসা শুরু করেছিল, যেখানে বর্তমানে তাদের প্রায় দুই হাজার স্টোর রয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সুম্বার আলফারিয়া ৯৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (পাঁচ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার) বিক্রির খবর দিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় সাত দশমিক এক শতাংশ বেশি। তবে তাদের নিট আয় তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে দুই দশমিক তিন ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা কোম্পানিটির জন্য প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ১৭ দশমিক পাঁচ কোটি মানুষের এই দেশটির জনসংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ২১ দশমিক পাঁচ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।
বাংলাদেশে আলফামার্টের যাত্রা শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই প্রথম নির্বাচন। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখাচ্ছে।
২০২৫ অর্থবছরে (জুন পর্যন্ত) বাংলাদেশের জিডিপি তিন দশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ অর্থবছরে চার দশমিক ছয় শতাংশ এবং পরবর্তী বছরে ছয় দশমিক এক শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
