আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ ইরানের, দিল পাল্টা ৫ শর্ত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (২৫ মার্চ) ২৬তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ ইরানের, দিল পাল্টা ৫ শর্ত
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সেইসঙ্গে পাল্টা পাঁচটি শর্ত দিয়েছে দেশটি। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার পর ইরান এ অবস্থান জানাল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
আরও বলা হয়েছে, 'ইরান তখনই যুদ্ধ শেষ করবে, যখন নিজে সেটা চাইবে এবং তার নিজস্ব শর্তগুলো পূরণ হবে। তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের হামলা অব্যাহত রাখবে বলেও সতর্ক করেন এই কর্মকর্তা।
প্রতিবেদনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পাল্টা পাঁচটি শর্তের কথা জানানো হয়। সেগুলো হলো- ইরানের কর্মকর্তাদের হত্যা বন্ধ করা, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা, চলমান সংঘাতের ক্ষতিপূরণ, অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের চূড়ান্ত অবসান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও নিশ্চয়তা।
এই শর্তগুলো বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ সম্ভবত হোয়াইট হাউসের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ, এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ইতোমধ্যেই প্রভাবিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পেয়েছে তেহরান: কূটনৈতিক সূত্র
তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫-দফা প্রস্তাব পেয়েছে বলে আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছেন একজন উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র।
তবে সূত্রটি এই প্রস্তাবকে 'অতিমাত্রিক ও অযৌক্তিক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সূত্রটি জানিয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আসল প্রস্তাবের বিষয়বস্তু ঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি।
সূত্রটি আরও বলেছেন, প্রস্তাবের ধরন এবং উপস্থাপনা বিভ্রান্তিকর।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরান স্পষ্টভাবে জানে তারা কী চায় এবং কী কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।
সূত্রটি আরও বলেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পরোক্ষ আলোচনা হয়নি, তবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা বিনিময় হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা: পাকিস্তানে বৈঠক আয়োজনে কাজ করছে হোয়াইট হাউস
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনার জন্য এই সপ্তাহে পাকিস্তানে একটি বৈঠকের আয়োজনে কাজ করছেন। প্রশাসনের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিএনএন-কে এই তথ্য জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সম্ভবত প্রশাসনের আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পাকিস্তান সফর করবেন। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, প্রস্তাবিত এই সফরের সময়সূচি, স্থান এবং কারা এতে অংশ নেবেন—তার সবকিছুই এখনও পরিবর্তন সাপেক্ষে।
তেহরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেবে না: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম
ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসাও 'যুক্তিসঙ্গত' হবে না বলে মনে করে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স। বুধবার (২৫ মার্চ) কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে ফার্স এ তথ্য জানায়।
ফার্স আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার আগে তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে চায় ইরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।
ট্রাম্প বলেন, তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আলোচনা করছেন।
তার দাবি, এই আলোচনা ইরানের পক্ষ থেকেই শুরু হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষে কার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে তা তিনি উল্লেখ করেননি।
দুইটি আঞ্চলিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় সীমা আরোপ, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং ইসরাইলের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান; বৈঠক হতে পারে পাকিস্তান বা তুরস্কে
যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। এই যুদ্ধ বন্ধের বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে হতে পারে। বুধবার রয়টার্সকে একজন ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
যদিও ইরান বরাবরই বলেছে যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় যাবে না, তবে এই অজ্ঞাত সূত্রের মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান কূটনৈতিক প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে।
ইরানি সূত্র প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কও 'যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় সাহায্য করেছে এবং বৈঠকের স্থান হিসেবে পাকিস্তান বা তুরস্কের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।'
এদিকে, ইসরাইলের মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা প্রস্তাবের বিষয়ে অবহিত হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো, সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য অর্থায়ন বন্ধ করা।
তুরস্কের সরকার দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারুন আরগামান বুধবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আঙ্কারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ভূমিকা পালন করছে।
তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে আলোচনায় আগ্রহী হয়নি।
আল জাজিরার ওসামা বিন জাভেদ জানিয়েছেন, 'আমরা নিশ্চিত ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানকে যে নথি দিয়েছিল, সেটি পাকিস্তান ইরানের কাছে উপস্থাপন করেছে। এখন এর প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।'
তুরস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা বিনিময় করছে: কর্তৃপক্ষ
তুরস্কের শাসক আঙ্কারা পার্টির (একে পার্টি) বিদেশ সম্পর্ক বিভাগের উপ-সভাপতি হারুন আরগামান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আঙ্কারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা পাঠানোর ভূমিকা পালন করছে।
আরগামান জানিয়েছেন, এর লক্ষ্য হলো উত্তেজনা কমানো এবং সরাসরি আলোচনার পথ সুগম করা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে তুরস্কের। তারা অন্যান্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে মিলিত হয়ে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে।
তেহরানের মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার দাবি ইসরায়েলি বাহিনীর
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানের এমন দুটি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যেখানে দূরপাল্লার 'নৌ ক্রুজ মিসাইল' তৈরি করা হয়। ইসরায়েলের মতে, এই মিসাইলগুলো সমুদ্র এবং স্থলভাগে যেকোনো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম।
ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৪ জন আহত: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর সাথে চলমান সংঘাতের জেরে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে ২০৪ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫,০৪৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ১২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর।
কূটনীতির বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি 'বিশ্বাসযোগ্য নয়': ইসমাইল বাঘাই
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে 'অবিশ্বাসযোগ্য' বলে অভিহিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বাঘাই জানান, অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব নিয়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, 'গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের বার্তা আদান-প্রদান চলছে এবং আমরা সেগুলোর জবাব দিয়েছি। আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—আমরা নিজেদের রক্ষা করা অব্যাহত রাখব।'
আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইরানি এই মুখপাত্র বলেন, 'বাস্তব পরিস্থিতির দিকে তাকান। ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমাগত বোমাবর্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার। সুতরাং তাদের কূটনীতি ও মধ্যস্থতার দাবি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।'
বাঘাই আরও যোগ করেন, 'যেহেতু তারা এই যুদ্ধ শুরু করেছে এবং ইরানের ওপর হামলা চালিয়েই যাচ্ছে, তাই কেউ কি বিশ্বাস করতে পারে যে তাদের মধ্যস্থতার দাবিটি সত্য?'
যুক্তরাষ্ট্র 'নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছে': ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সামরিক মুখপাত্র
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের একদিন পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে 'নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা' করছে। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় মার্কিন নেতৃত্বকে উপহাস করে ইরানি সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, 'আপনাদের প্রতিশ্রুতির যুগ শেষ হয়ে গেছে'।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর'-এর মুখপাত্র জোলফাকারি প্রশ্ন তোলেন, 'আপনাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনারা নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছেন?'
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলে ফি আদায় 'অবশ্যই' অব্যাহত রাখবে ইরান: ইসমাইল বাঘাই
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য বিভিন্ন দেশ ও নৌযানের কাছ থেকে ফি আদায় 'অবশ্যই' অব্যাহত রাখবে ইরান। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের বাধার কারণে বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, 'ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।' তিনি আরও জানান, যেসব দেশের সাথে এই আগ্রাসনের কোনো সম্পর্ক নেই, তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের পর হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে, যাতে তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
বাঘাইয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে (আইএমও) একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, 'শত্রুভাবাপন্ন নয়' এমন জাহাজগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তিন সপ্তাহ আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল যে, তেহরান কিছু জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে, তবে শর্ত হলো ওই সব জাহাজের পণ্য চীনা মুদ্রা 'ইউয়ান'-এ লেনদেন করতে হবে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত দুটি জাহাজ নিরাপদে পার হওয়ার বিনিময়ে ইরানকে অর্থ প্রদান করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি জাহাজের ক্ষেত্রে এই ফি-র পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ডলার। তবে সিএনএন এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র নিজেই কয়েক দশক ধরে বিশ্ব অর্থনীতির বিরুদ্ধে তাদের মুদ্রাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে—বিভিন্ন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে এবং গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণের দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।'
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান অ্যাডনক-এর প্রধান সুলতান আহমেদ আল জাবের বলেছিলেন, এই জলপথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়া প্রতিটি জাতির বিরুদ্ধে একটি 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ'।
ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক: কিম জং উন
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধই প্রমাণ করে তার দেশের পারমাণবিক অস্ত্র ধরে রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট 'সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি'-তে দেওয়া এক ভাষণে কিম ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে 'রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাস ও আগ্রাসনের' অভিযোগ তোলেন।
কিম জং উন বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়' পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া চাপ এবং তাদের 'মিষ্টি কথা' প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া সঠিক কাজ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মর্যাদা এখন 'অপরিবর্তনীয়'।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আমেরিকার জন্য একটি 'আসন্ন' হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এর কয়েক মাস আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে 'পুরোপুরি ধ্বংস' করে দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের কাছে ইরান সংঘাত এই দীর্ঘদিনের বিশ্বাসকেই আরও মজবুত করেছে, যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই তারা মার্কিন সামরিক শক্তির মুখে অনেক বেশি অরক্ষিত। আর যাদের কাছে এই অস্ত্র আছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ ঠেকানোর ক্ষমতা রাখে।
ইরানকে দ্রুত শান্তি আলোচনায় বসার তাগিদ দিল চীন
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক ফোন আলাপে ইরানকে দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। বেইজিং জানিয়েছে, তেহরানের অনুরোধেই গত মঙ্গলবার এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এদিকে, একটি ইরানি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে যে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যেকোনো 'টেকসই' প্রস্তাব শুনতে তেহরান প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাপকালে ওয়াং ই বলেন, 'আলোচনা বা সমঝোতা ইরানি জাতি ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও সাধারণ প্রত্যাশা।' চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াং ই সব পক্ষকে শান্তির প্রতিটি সুযোগ ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
চীন গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা করে আসছে। তারা সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক ও অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্বিচারে হামলারও বিরোধিতা করেছে। তবে ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে বেইজিং সরাসরি কোনো নিন্দা জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াং ই-র এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে চীনের অসন্তোষই ফুটে উঠছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং পণ্য পরিবহন ও ভ্রমণ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ইরানের জন্য চীন দীর্ঘদিনের একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার। তবে যুদ্ধের সময় ইরানের কিছু কৌশল—যেমন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানো—চীনের কূটনীতিকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের জন্য এই পরিস্থিতির অর্থনৈতিক ঝুঁকি অনেক বেশি।
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আরাগচি ওয়াং ই-কে বলেছেন, 'ইরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' তবে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাগচি তার দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, 'হামলাকারীরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরান প্রতিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।'
দক্ষিণ লেবাননে বিশাল এক 'বাফার জোন' নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা ইসরায়েলের
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের এক বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে লিতানি নদীর ওপর থাকা সেতুগুলো উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলা হবে এবং উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের ফিরতে দেওয়া হবে না।
কাটজের দাবি, হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত পাঁচটি সেতু ধ্বংস করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মঙ্গলবার দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট '৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন' থেকে কয়েক হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধ শেষ করতে তেহরানের সাথে একটি সম্ভাব্য চুক্তির কথা বলছেন, ঠিক তখনই এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে।
১৮ মার্চ রয়টার্স প্রথম জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে সরাসরি সেনা মোতায়েনের বিকল্পগুলো প্রসারিত হবে। এই ধরণের উত্তেজনা বৃদ্ধি চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো এই যুদ্ধের ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, সৈন্যরা মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক কোথায় বা কখন পৌঁছাবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এই সৈন্যরা নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ-এ অবস্থান করছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই বিষয়ে সব প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের দিকে ঠেলে দিয়েছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস বলেছে, সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত সব ঘোষণা পেন্টাগন থেকেই আসবে।
'শত্রুভাবাপন্ন নয়' এমন জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে: জাতিসংঘকে ইরান
ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে (আইএমও) জানিয়েছে যে, 'শত্রুভাবাপন্ন নয়' এমন জাহাজগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার ইরানের পাঠানো একটি চিঠির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এই চিঠিটি গত রবিবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার লন্ডনে অবস্থিত জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত সংস্থা আইএমও-এর ১৭৬টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে এটি বিতরণ করা হয়।
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও হামলার দাবি ইরানের
ইরান জানিয়েছে, দেশের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপনায় আবারও হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (এইওআই)-এর জনসংযোগ দপ্তর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়, যা ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগের হামলার ধারাবাহিকতায় চালানো হয়েছে। তবে এতে কোনো আর্থিক বা কারিগরি ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। কেন্দ্রের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
এইওআই জানায়, একই বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত ১৭ মার্চও হামলা হয়েছিল। সেবারও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইরান 'শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায়' হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য 'বিপজ্জনক ও অপূরণীয় পরিণতি' ডেকে আনতে পারে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের বিষয়, যার জেরে দেশটির ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার দুই দিন পর।
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে ভ্যান্স ও রুবিও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, দাবি ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি অত্যন্ত আশাবাদী যে, খুব শীঘ্রই একটি সমঝোতা সম্ভব হবে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আমরা এখন আলোচনার টেবিলে আছি। মার্কো ও জেডি-র পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।'
ইরানের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, 'অপরপক্ষ এখন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। আর তা চাইবে না-ই বা কেন? তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থাও এখন অকেজো—এটিই তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা।'
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি 'যুদ্ধবিরতি চান না'। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নিজের অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হিসেবে মঙ্গলবার তিনি বলেন, 'আসল বিষয় হলো তারা এখন আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং বেশ যৌক্তিকভাবেই কথা বলছে।'
পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে ট্রাম্প তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, 'মনে রাখবেন, সবকিছুই শুরু হয় একটি শর্ত দিয়ে—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। আমার কাছে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শর্তই হলো এটি। তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এবং এ নিয়েই আমাদের আলোচনা চলছে। বিস্তারিত এখনই বলতে চাই না, তবে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।'
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে আগুন
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজহি জানান, এ হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা দলের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান-সম্পর্কিত ড্রোন দিয়ে একাধিকবার কুয়েতের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং যাত্রী টার্মিনালেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানকে ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি 'রোডম্যাপ' (শান্তি পরিকল্পনা) পাঠিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান এর আগেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমস, বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। তবে বিবিসি এখনো পর্যন্ত ওই প্রস্তাবের কোনো নথি দেখেনি এবং বিষয়টি নিশ্চিত হতে কাজ করছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই পরিকল্পনায় বেশ কিছু কঠোর শর্ত ও দাবি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান একটি দাবি হলো—কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়া এবং একে একটি মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান যদি এই ১৫ দফার পরিকল্পনা মেনে নেয়, তবে বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে সব ধরণের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে '১৫ দফা' কাঠামো পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা মূলত প্রায় এক বছর আগে তার আলোচক দলের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।
তাদের মতে, ২০২৫ সালের মে মাসের শেষ দিকে এই ১৫ দফা পরিকল্পনাকে ভিত্তি করে আলোচনা হয়েছিল। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর সেই আলোচনা ভেঙে যায়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিকল্পনাটি যদি মূলত আগের প্রত্যাখ্যাত প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে তা হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, অথবা ট্রাম্প বাস্তবতার চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে—এমন ধারণা তৈরি করতে চাইছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যে '১৫ দফা' পরিকল্পনা দেয়, তাতে এমন অনেক শর্ত ছিল, যা ইরানের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন। এতে বলা হয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে যে অর্থ ছাড় হবে, তা ব্যবহারের ওপরও কড়াকড়ি থাকবে। পাশাপাশি শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি–সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল, মানবাধিকারসহ অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার প্রস্তাব ছিল।
এ পরিকল্পনায় আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া অর্থ ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহার করতে পারবে না। ইরানের সব ইউরেনিয়াম মজুত দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া এবং ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ মাত্রায় নামিয়ে আনার প্রস্তাবও ছিল। এক মাসের মধ্যে সব সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা অচল করে দেওয়া এবং সেন্ট্রিফিউজগুলো অকার্যকর করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দেয়, জাতিসংঘের তদারকির আওতায় ইরানের বাইরে একটি জ্বালানি ভান্ডার রেখে নতুন বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে তারা।
এছাড়া ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কনসোর্টিয়াম গঠনের কথাও বলা হয়, যার বাইরে থেকে একজন ব্যবস্থাপক থাকতে পারে।
তেল আবিবসহ ইসরায়েল জুড়ে ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইসরায়েলের জরুরি উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, তেল আবিবের উপকণ্ঠে বনেই ব্রাক শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬ জনই শিশু। বর্তমানে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জরুরি চিকিৎসা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানায়, আহতদের মধ্যে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক পেটে ও মাথায় স্প্লিন্টারের আঘাতে মাঝারি অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া ছয় শিশুসহ আটজনের অবস্থা মৃদু বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, নিকটবর্তী গিভাত শমুয়েল এলাকায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ফুটেজে আবাসিক ভবনগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। একটি ভবনের বারান্দা ধসে গাড়ির ওপর পড়ে এবং একটি অ্যাপার্টমেন্টের উপরের অংশ ধসে নিচের তলায় ভেঙে পড়ে।
এদিকে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি পরিষেবা সংস্থা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা হিসেবে একাধিক সাইরেন ও সতর্কবার্তা জারি করে, এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেয়।
তেহরানে নতুন দফার বিমান হামলা শুরু: আইডিএফ
ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন দফায় বিমান হামলা শুরু করার কথা নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তারা জানিয়েছে, তেহরানজুড়ে 'ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের' বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
তেহরানের ভেতর থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমানে শহরটির পূর্ব, উত্তর এবং মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। মূলত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
