৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ‘ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে’: ইরানকে আবারও হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (৪ এপ্রিল) ৩৬তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে 'ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে': ইরানকে আবারও হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানকে 'ভয়াবহ পরিণতি' বরণ করতে হবে বলে আবারও হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে লিখেছেন, 'আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম, মনে আছে? সময় ফুরিয়ে আসছে। ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসার আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি।'
ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে ফোনালাপে ইরান যুদ্ধ অবসানে আরও প্রচেষ্টার তাগিদ এরদোয়ানের
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধকে একটি 'ভূ-কৌশলগত অচলাবস্থা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এই সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল ডিরেক্টরেট অব কমিউনিকেশনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাথে এক ফোনালাপে এরদোয়ান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ন্যাটো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।
ফোনালাপে এরদোয়ান বলেন, চলমান যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে তুরস্কের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ন্যাটোর সমর্থন এই জোটের সংহতি এবং প্রতিরোধ ক্ষমতারই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গও টেনেছেন। তিনি ন্যাটো প্রধানকে আশ্বস্ত করেন যে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে তুরস্ক তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
ইরান যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহেই ৩,৩০০ প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুত ৪৩ লাখ মানুষ: ডব্লিউএইচও
ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ প্রভাবের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৩ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, চলমান এই লড়াই সাম্প্রতিক দশকের অন্যতম সুদূরপ্রসারী সংকটের জন্ম দিয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বালখি আরও জানিয়েছেন, এ যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর অন্তত ১১৬টি হামলার ঘটনা ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে চাপ বাড়ায় মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছেন ট্রাম্প
চলতি সপ্তাহে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে অপসারণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন তার মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের কথা ভাবছেন। কারণটাও বেশ স্পষ্ট: ইরান যুদ্ধের জেরে যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি হতাশই বলা যায়। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তি এমনটাই জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস যেহেতু এখন নতুন এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জিং সময়ের সম্মুখীন, তাই সম্ভাব্য এই রদবদল হোয়াইট হাউসের জন্য একটি নতুন সূচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে গ্যাসের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে জনপ্রিয়তা কমেছে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। এছাড়াও এই যুদ্ধ আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে- এমন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কেউ কেউ বলেছেন, বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ট্রাম্পের ভাষণ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে বার্তা বা জনবল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আরও জোরদার হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, 'কার্যক্রম দেখানোর জন্য রদবদল খারাপ কিছু নয়, তাই না?'
হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো রদবদলের ফলে মন্ত্রিসভায় কে কে জায়গা হারাতে পারেন, কিংবা নতুন করে কে কে জায়গা পেতে পারেন, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। তবে তারা বলেছেন, একাধিক কর্মকর্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
ইরানে ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা হয়েছে: ইরানের বিজ্ঞানমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধে ইরানের অন্তত ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় 'সরাসরি হামলার' শিকার হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ইরান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি'র (আইএসএনএ) বরাতে দেশটির বিজ্ঞানমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হোসেন সিমায়েই সাররাফ বলেন, 'অসামরিক এলাকা এবং শিক্ষা ও গবেষণার জন্য জরুরি অবকাঠামোসমূহকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।' আইএসএনএ-র প্রতিবেদনে মন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে আরও বলা হয়, 'আজ লাখ লাখ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিক্ষা ও গবেষণা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।'
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতকাল তেহরানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'শহীদ বেহেশতি ইউনিভার্সিটি'র বেশ কিছু ভবন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরান সরকারের দাবি, দেশটির বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হচ্ছে।
তবে ইসরায়েল এই হামলাগুলোকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই আক্রমণগুলো চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে যে, তাদের বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।
একদিনে ইরানের ২৩ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৬ ড্রোন প্রতিহতের দাবি আমিরাতের
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপর ইরানের ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ ইরান থেকে ছোঁড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৬টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে আমিরাতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুদ্ধের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৪৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ১৪১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
সংঘাতের ভয়াবহতা তুলে ধরে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের এসব হামলায় এ পর্যন্ত আমিরাতের দুজন সামরিক সদস্য এবং একজন মরক্কান ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন।
বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিস্তিন, ভারত ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত অন্তত ২১৭ জন বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল ও ইস্পাত শিল্পে মার্কিন-ইসরায়েলির হামলা বাড়ছে
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ষষ্ঠ সপ্তাহে পা রাখার সাথে সাথে ইরানের শিল্প খাতের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্পাত কারখানা, সিমেন্ট কারখানা এবং পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সগুলো এখন এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানের একাধিক পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে হামলা চালানো হয়। এসব স্থাপনার কোনো কোনোটি দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস' (আইআরজিসি)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
বিশেষ করে মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স দুটি ইরানের শিল্প অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং দেশটির রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস ও তেল প্রক্রিয়াজাত করে প্লাস্টিক, সার এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক উৎপাদন করা হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশের একটি সিমেন্ট কারখানাতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, হামলার পরও কারখানাটির কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে দক্ষিণ ইরানের বেশ কিছু বন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনার লক্ষ্যে কাতার পৌঁছেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
কূটনৈতিক আলোচনার লক্ষ্যে কাতার পৌঁছেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তার চলমান সফরের অংশ হিসেবে তিনি বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তিনি সৌদি আরব সফর করেন। কাতার সফর শেষ করে তার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোট স্থগিত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহরাইনের আনা একটি প্রস্তাবের ওপর আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট হতে পারে। কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
এই ভোটটি প্রথমে গতকাল হওয়ার কথা ছিল এবং পরে তা আজকের জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন কূটনীতিক এখন বলছেন যে ভোটটি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন কোনো তারিখ এখনও ঠিক করা হয়নি।
সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায় যে, এই বিলম্বের কারণ সম্পর্কে জাতিসংঘে বাহরাইনের মিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এই খসড়া প্রস্তাবটি গৃহীত হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে সদস্য দেশগুলো 'প্রয়োজনীয় সব ধরণের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা' গ্রহণের অনুমতি পাবে। এর ফলে কার্যত ওই প্রণালিতে নৌ-অভিযানের পথ প্রশস্ত হবে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মূলত বন্ধ রয়েছে।
তবে বাহরাইনের এই প্রস্তাবটি চীন, রাশিয়াসহ আরও কিছু দেশের বাধার মুখে পড়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত ফু কং এ প্রসঙ্গে বলেন, 'এটি মূলত শক্তির বেআইনি ও নির্বিচার ব্যবহারের বৈধতা দেবে, যা অনিবার্যভাবে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে এবং এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।'
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ বিমান হারিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী
শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানায়, একই দিনে একটি মার্কিন এ-১০ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যা পরে উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।
শুক্রবার আলাদা দুটি ঘটনায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানবচালিত বিমানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকেই এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার আইআরজিসির
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ৩ মার্চ রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, হামলাটি ইসরায়েল পরিচালনা করেছে।
এই বক্তব্য আসে দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের পর। সেখানে বলা হয়, ইরানের এই হামলা সৌদি কর্তৃপক্ষ যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছে তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছিল, বাস্তবে আগুনটি কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
আইআরজিসি ওই প্রতিবেদনের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই হামলার সঙ্গে 'ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সম্পর্কই নেই' এবং অঞ্চলে ইসরায়েলের কৌশল বিবেচনায় এটি 'নিশ্চিতভাবেই জায়নিস্টদের কাজ'।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'জায়নিস্ট শাসনের' আঞ্চলিক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুসলিম দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য 'আমেরিকান-জায়নিস্ট চক্রান্তের মাধ্যমে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল ও ধ্বংস করার প্রচেষ্টা' মোকাবিলায় সজাগ থাকা জরুরি।
শত্রুপক্ষের ১৬০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
ইরানের জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা যৌথ সদর দপ্তরের কমান্ডার জানিয়েছেন, দেশটির সেনারা 'শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন' মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং এ জন্য তারা আধুনিক দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করছে, যা পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও উন্নত মানববিহীন উড়োজাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর খবরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি বলেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৬০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে হারমেস ও লুকাস ধরনের ড্রোনও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব উড়োজাহাজ ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে নতুন কৌশল, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবনের কারণে, যা শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করে তুলেছে।
ইসফাহানে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
ইরানের ইসফাহান প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি-র অত্যন্ত আধুনিক ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে 'এমকিউ-১' মডেলের ওই ড্রোনটি শনাক্ত করার পর তা ভূপাতিত করা হয়।
দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের পর তেহরানে উল্লাস
শুক্রবার ভোরে প্রথম মার্কিন বিমানটি ভূপাতিত করা হয় এবং বর্তমানে এর পাইলটের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে এই তল্লাশিতে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্য একটি বিমান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে হরমুজ প্রণালীর কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে ওই 'এ-১০ ওয়ার্টহগ' বিমানটিও তারা গুলি করে নামিয়েছে। সেই বিমানের পাইলটদেরও খোঁজা হচ্ছে।
ইরানে বর্তমানে অত্যন্ত আনন্দের সাথে এসব বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি রাতেই রাজপথে উল্লাস দেখা গেছে, তবে আজ রাতের উদযাপনে এক নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ইরানিরা বলছেন, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন এটি তারই প্রতিফলন। তারা নতুন নতুন চমকের অঙ্গীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তাদের এমন সব সক্ষমতা রয়েছে যা এখনও এই যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি। আজ সেটিই সবার কাছে স্পষ্ট হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তারা আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, ইরানি সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি-র সক্ষমতাকে খাটো করে দেখে আমেরিকানরা ভুল করেছে। এখান থেকে পাওয়া মূল বার্তাটি হলো অবজ্ঞা এবং বিজয়ের। সাধারণ মানুষ ইরানি সেনাবাহিনীর এই কাজকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে, যা সেনাবাহিনী এবং সরকার সমর্থকদের নতুন মনোবল জোগাচ্ছে।
বিবৃতিগুলোতে বিস্তারিত তথ্য কম থাকলেও দুটি বিমান ভূপাতিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার এবং ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। ইরানিদের মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে ইরান এই লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং আমেরিকানদের সাথে এই সংঘাতের শেষ হাসি তারাই হাসবেন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত ১
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাজেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যখন আকাশপথে এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজ করছিল, তখন এই আহতের ঘটনা ঘটে।
সংস্থাটি জানায়, তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত বনেই ব্রাক শহরে কাঁচের টুকরোর আঘাতে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত শমোনায় রকেট হামলায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, রকেট আঘাত হানার আগে কোনো সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজেনি।
ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার অভিযান 'অত্যন্ত বিপজ্জনক' হবে: সাবেক মার্কিন নৌ-কর্মকর্তা
বিধ্বস্ত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের যেকোনো মার্কিন অভিযান 'অত্যন্ত বিপজ্জনক' হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌ-কর্মকর্তা এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হারলান উলম্যান। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
উলম্যান জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভবত এই উদ্ধার কাজের জন্য হেলিকপ্টার এবং এসি-১৩০ গানশিপ ব্যবহার করে বিশেষ অভিযান চালাবে। তবে উদ্ধারকারী দলগুলো খুব নিচ দিয়ে ওড়ার কারণে তারা শত্রুপক্ষের হামলার মুখে বেশ অরক্ষিত বা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।
তিনি বলেন, 'আমাদের দলগুলো এই ধরণের কাজে বিশ্বের সেরা এবং দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে বড় প্রশ্ন হলো, ওই পাইলট এখন কী অবস্থায় আছেন? প্যারাসুট দিয়ে নামার সময় তিনি কি কোনো আঘাত পেয়েছেন? তার কাছে টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম আছে কি না এবং আমরা কি তাকে উদ্ধারের জন্য যথেষ্ট দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারব?'
উলম্যানের মতে, এই অভিযানে বড় পরিসরে স্থল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা কম। বরং পাইলটের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত এলাকাটিকে শত্রুমুক্ত করতে হবে এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত তুলে নিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ, কাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এই অভিযানটি অতি দ্রুত পরিচালনা করা প্রয়োজন। কারণ ইরানিরা ইতিমধ্যে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে এবং 'একজন আমেরিকানকে জীবিত বন্দি করা বর্তমানে ইরানের বড় একটি স্বার্থের বিষয়'।
বাব আল-মান্দাব প্রণালি নিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে ইরান বর্তমানে বিশ্বের নজর কেড়েছে। তবে এবার দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'বাব আল-মান্দাব' প্রণালির নাজুক পরিস্থিতির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবফ প্রশ্ন তোলেন, 'বিশ্বের মোট কত শতাংশ তেল, এলএনজি, গম, চাল এবং সারের কত শতাংশ বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে পার হয়?' বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রতি এক ধরণের সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও জানতে চান, 'কোন দেশ এবং কোম্পানিগুলো এই প্রণালি দিয়ে সবথেকে বেশি পণ্য পরিবহন করে থাকে?'
যদিও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি হরমুজ প্রণালীর মতো অতটা সংকটপূর্ণ নয়, তবুও সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনের জন্য বাব আল-মান্দাব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইয়েমেন সংলগ্ন এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে ৫ শতাংশ হলো জ্বালানি তেলের সরবরাহ।
ইয়েমেনের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীরা ইরানের সমর্থনে এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্প ও দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গালিবফের এই মন্তব্য সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানে নিখোঁজ পাইলটদের উদ্ধারে গিয়ে হামলার মুখে ২ মার্কিন হেলিকপ্টার, ফিরে গেল ঘাঁটিতে
ইরানি হামলায় ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটদের উদ্ধারে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক হেলিকপ্টারও। তবে হেলিকপ্টারে থাকা সকল সেনাসদস্য নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
নিখোঁজ পাইলটদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় দুটি ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার দুটি ইরানি বাহিনীর গোলার মুখে পড়ে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারের সেনাসদস্যরা সবাই সুরক্ষিত আছেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় হেলিকপ্টারের কয়েকজন ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন। অবশ্য উভয় হেলিকপ্টারই সফলভাবে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি গ্রামীণ এলাকায় একটি গাড়ি থেকে তিন ব্যক্তি নেমে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। এনবিসি নিউজ ভিডিওটি যাচাই করেছে। ভিডিওটিতে চিত্রগ্রহণকারী ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, 'একটি আমেরিকান হেলিকপ্টার এবং এটি সামরিক বাহিনী। গুলি করো, গুলি করো। সাবাস! গুলি করো।'
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ৩৬৫: পেন্টাগন
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৬৫ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী— আহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৪৭ জন, নৌবাহিনীর ৬৩ জন, মেরিন (নৌসেনা) ১৯ জন এবং বিমানবাহিনীর ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন।
এছাড়া, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৩ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরায়েলের আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরায়েলের আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
একই সঙ্গে ইসরায়েলের আকাশে ক্লাস্টার গোলাবারুদ দেখা গেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তেল আবিবে একজন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি হিজবুল্লাহর
উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
তারা জানিয়েছে, নাহারিয়া শহরের উত্তরে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লিমান ব্যারাকে "আক্রমণাত্মক ড্রোন স্কোয়াড্রন" দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫০ মিনিটে হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
২৪ ঘণ্টায় ইরানে অন্তত ২০০ হামলা: মানবাধিকার গোষ্ঠী
গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকারবিষয়ক একটি সংস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস ইন ইরান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে অন্তত ২০৬টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
গোষ্ঠীটির সংবাদসেবা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার এই সময়ে ইরানের ১৩টি প্রদেশে হামলা হয়েছে।
তাদের হিসেবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ১,৬০৭ জন বেসামরিক লোক, ১,২১৩ জন সামরিক সদস্য এবং সামরিক অবস্থান নিশ্চিত নয়–এমন ৭১১ জন নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরা স্বতন্ত্রভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার পর্যন্ত ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ২,০৭৬ জন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই যুদ্ধবিমান ভূপতিত করার দাবি ইরানের, নিখোঁজ এক পাইলটের সন্ধান এখনও চলছে
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে একটি দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং অন্যটি হরমুজ প্রণালির আশপাশে ভূপাতিত করা হয়।
শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক মুখপাত্র জানান, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে।
পরে একই দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করে, যা পরে উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুই যুদ্ধবিমানের মোট ৩ পাইলটের মধ্যে ২ জনকে উদ্ধার করেছে মার্কিন বাহিনী এবং এক পাইলটের সন্ধান এখনও চলছে।
নিউইয়র্ক টাইমস অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত এ-১০ বিমানের পাইলট নিরাপদে আছেন।
তবে ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের মধ্যে অন্তত একজন পাইলটের ভাগ্য এখনও জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানটির একজন ক্রু সদস্যকে শনাক্ত করে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করেছে। তবে অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এনবিসি নিউজকে বলেন, যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, "না, একেবারেই না। না, এটি যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধে আছি।"
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং সংযুক্ত প্যারাসুটসহ একটি ইজেকশন সিটের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া বিজয়ের দাবিকে ব্যঙ্গ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, "টানা ৩৭ বার ইরানকে পরাজিত করার পর তারা যে কৌশলহীন যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেটি এখন 'শাসন পরিবর্তন' থেকে নেমে এসে দাঁড়িয়েছে—'এই! আমাদের পাইলটদের কেউ খুঁজে দিতে পারবে? অনুগ্রহ করে?'"
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পেন্টাগন বা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারকি করে সেন্টকম।
এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করলে, সেন্টকম দ্রুত তা অস্বীকার করেছিল।
এদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বেসামরিক মানুষকে, সম্ভাব্য জীবিতদের খোঁজে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনার খবরে বলা হয়, ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বুয়ের-আহমাদ প্রদেশের গভর্নর বলেছেন, ক্রু সদস্যদের যে-ই আটক করতে পারবে, তাকে "বিশেষভাবে প্রশংসিত" করা হবে।
