ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ নিক্ষেপের প্রস্তুতি ট্রাম্পের, লক্ষ্য পারমাণবিক ও জ্বালানি স্থাপনা
ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক অস্ত্র 'মাদার অব অল বম্বস' (এমওএবি বা মোয়াব) ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে 'জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বম্ব' (মোয়াব) ব্যবহারের সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা সবচেয়ে বড় এই অপারমাণবিক বোমার ব্যবহার সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং এটি হবে ইরানে এই অস্ত্রের প্রথম প্রয়োগ।
মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ দেশটির 'বিপুল জ্বালানি অবকাঠামো' লক্ষ্য করে অতিরিক্ত হামলার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এই হামলার পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
'মাদার অব অল বম্বস' বা 'মোয়াব' নামে পরিচিত এই দানবীয় বোমাটির ওজন প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড এবং এটি ৩০ ফুট লম্বা। ১৮ হাজার ৭০০ পাউন্ড বিস্ফোরক বহনকারী জিপিএস-নির্দেশিত এই অস্ত্রটি মাটির স্পর্শে আসার আগেই মাঝআকাশে বিস্ফোরিত হয় এবং প্রায় এক মাইল ব্যাসার্ধজুড়ে বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম।
সাধারণ যুদ্ধবিমানের ডানার নিচে বহন করার তুলনায় এটি অতিরিক্ত ভারী ও বড় হওয়ায় লকহিড এমসি-১৩০ নামের একটি পরিবর্তিত কার্গো পরিবহন বিমানের পেছনের দরজা দিয়ে এটি নিচে ফেলতে হয়।
এর আগে ইরান যুদ্ধে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করতে বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে জিবিইউ-৫৭ এবং জিবিইউ-৭২-এর মতো ভারী 'বাংকার-বাস্টার' বোমা ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাটির গভীরে অবস্থিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মোয়াব কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। কারণ বাংকার-বাস্টার বোমার মতো মাটির গভীরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটানোর সক্ষমতা এই বোমার নেই।
ইরান সংক্রান্ত সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, 'মোয়াব মূলত বিশাল এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার মতো অস্ত্র, এর বেশি কিছু নয়। মাটির গভীরে প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো করে এটি কোনোভাবেই তৈরি করা হয়নি।'
বিশ্লেষকদের মতে, এই বোমা ব্যবহৃত হলে তা কেবল ভূপৃষ্ঠের ওপরেই বিধ্বংসী প্রভাব ফেলবে। একটি শহরের প্রায় নয়টি ব্লকের সমান এলাকা এক নিমিষে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো বড় বিস্ফোরণ ক্ষমতার কারণে এই বোমা ব্যবহারে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প টেবিলে খোলা রেখেছেন।'
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সুড়ঙ্গ ঘাঁটির ওপর প্রথমবার এই মোয়াব বোমা ব্যবহার করেছিলেন। সেই হামলায় প্রায় ৯৫ জন নিহত হয়েছিল। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প ভোটারদের কাছে গভীরভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন।
ট্রাম্প বারবার মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে আঘাত হানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গ্রানাইট পাথরের তৈরি এই প্রাকৃতিক দুর্গের ভেতরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সবচেয়ে গোপন অংশগুলো রয়েছে বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা ধারণা করেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মূল প্রবেশদ্বারে একটি চমৎকার, বড়সড় আঘাত হানার সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।' তিনি আরও বলেছিলেন, 'আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন গুঁড়িয়ে দেব। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন। তাদের জানিয়ে দিন যে আমরা আসছি, বুঝতে পেরেছেন? তারা এর বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না।'
