জুলাই সনদ সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটা চুক্তি: আলী রীয়াজ
জুলাই জাতীয় সনদ সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটা চুক্তি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, 'জুলাই জাতীয় সনদ সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটা চুক্তি। এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে।'
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)- আয়োজিত 'শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ'- শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদে সরকার বা ঐক্যমত্য কমিশন লাভবান হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'দেশের ইতিহাসে এর আগে যে কয়েকবার গণভোট হয়েছে, তবে এবারের গণভোট সেগুলোর চেয়ে আলাদা। এই গণভোটে বলা হচ্ছে না, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূসের ওপর মানুষের আস্থা আছে কি না, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যমত্য কমিশনের যে আলোচনা, গণভোটে তা জনগণের কাছে যাবে। জনগণ সেটা সমর্থন করছে কি না, সেই সম্মতি চাওয়া হচ্ছে।'
গণভোটে জুলাই সনদ 'হ্যাঁ' ভোটে বিজয়ী না হলে বাংলাদেশ আবার পুরনো ব্যবস্থায় ফেরত যাবে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে গণভোটের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব বড় চ্যালেঞ্জ। যে প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরির ব্যাপারে আমরা আন্তরিক কি আন্তরিক না, রাজনৈতিক দলগুলোকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।'
বিদ্যমান সংবিধান বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ তৈরিতে সহায়তা করেছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, 'আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে রাজনৈতিক দলগুলো যদি শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য একটি গতানুগতিক নির্বাচন হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।'
তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক দলগুলো এটা বুঝতে চাচ্ছেন কি চাচ্ছেন না সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন।'
বিদ্যমান সংবিধানকে অক্ষুণ্ন রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মনে করেন আলী রীয়াজ।
তিনি আরও বলেন, 'যদি আমরা মনে করি যে বিদ্যমান সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রেখে, আমরা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ব, তাহলে কোথাও না কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। এটা আমাদের বুঝতে হবে।'
যে সংস্কারগুলো অন্তর্বর্তী সরকার করেছে, সেটা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া দল যদি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না করে, তাহলে সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
এসময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের,বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, এনডিপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল হারুন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদসহ আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
