সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে কার লাভ হচ্ছে সেটি বোধগম্য নয়: বদিউল আলম মজুমদার
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, রাজনীতিবিদেরা বহু সময় ব্যয় করে, বহু আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এখানে 'ডকট্রিন অব পলিটিক্যাল কোয়েশ্চেন' প্রয়োগ হতে পারে।'
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, 'সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে কার লাভ হচ্ছে? সরকার গঠনের শুরু থেকে বিভক্তি, অনৈক্য সৃষ্টি করে তারা কীভাবে লাভবান হবে, সেটি বোধগম্য হচ্ছে না। বরং এর মাধ্যমে জটিলতা সৃষ্টি হবে।'
আজ রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে 'জুলাইয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি: সরকার ও নতুন সংসদের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'গণভোটের বিষয়ে এখন যে বিতর্ক হচ্ছে, তার সমাধান সংবিধানে খোঁজা হচ্ছে। সংবিধানে এর সমাধান নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানের ভিত্তিতে নয়, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এসেছে। সরকার যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছে এবং গণভোটে মানুষ যে রায় দিয়েছে, সেখানেই এর সমাধান আছে।'
আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, 'আইন অঙ্গনে একটা ডকট্রিন আছে, কলড ডকট্রিন অব পলিটিক্যাল কোয়েশ্চেন। অর্থাৎ রাজনৈতিক বিষয়। কতগুলো রাজনৈতিক বিষয় আছে, রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় আছে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয় আছে, সেগুলো আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়া উচিত।'
সেমিনারে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, 'আইনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা সত্ত্বেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যরা জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়কে অসম্মান করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'জুলাই সনদের আদেশের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে একই শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু বিএনপির এমপিরা তা না করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন।' তার মতে, এর মাধ্যমে শপথের দিনই জুলাই সনদের পাঁচ দফা আদেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে।
বিএনপির বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, 'নির্বাচনের আগে দলটি "না" ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও পরে জনগণের মনোভাব বুঝে "হ্যাঁ" ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। এখন আবার আদালতের আশ্রয় নিয়ে গণভোটের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।'
আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় টিকে থাকার মানসিকতার কারণে আওয়ামী লীগের পরিণতি সবাই দেখেছে। বিএনপি যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে।' যারা চাতুরির আশ্রয় নেয়, তাদের জন্য রাজপথ প্রস্তুত আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
'গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম'-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাসরুরের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন জামায়াত ইসলামীর আইনজীবী শিশির মনির, এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান হাসনাত কাইয়ুম, এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার, রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার ফুয়াদ, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. দিলারা জামান চৌধুরী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, নারী সংগঠক ও উদ্যোক্তা ফারহানা সূচি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শিব্বির আহমদ, ভয়েস ফর রিফর্মের হাসিব হোসেনসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে জুলাই রাজবন্দী এলায়েন্স, মঞ্চ ২৪, তারুণ্যের জুলাইসহ জুলাই বিপ্লবের বিভিন্ন যোদ্ধা ও প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা সংহতি প্রকাশ করেন।
