শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতন: প্রিন্সিপালের স্বামী পবিত্র কুমার ৪ দিনের রিমান্ডে
রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি স্কুলে চার বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপালের স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক মো. নুর ইসলাম। সেদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন মিরপুর-৬ এলাকা থেকে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া এই আসামিসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল রশীদ মোল্লা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমির প্লে শ্রেণিতে দুই মাস আগে বাদী তার চার বছরের সন্তানকে ভর্তি করান। ১১ জানুয়ারি শিশুটির ক্লাস শুরু হয়। ঘটনার দিন ১৮ জানুয়ারি সকালে তাকে স্কুলে দিয়ে যান বাদী। দুপুর ১টার দিকে স্কুলে গিয়ে তিনি দেখেন, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটির হাত জোর করে চেপে ধরে রেখেছেন এবং প্রিন্সিপালের স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া একটি চেয়ারে বসে আছেন। সে সময় শিশুটিকে বিবর্ণ, ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান বাদী। পরে শিশুটিকে বাসায় নিয়ে যান।
বাসায় নেওয়ার পর শিশুটি বারবার কান্না করে বলে, "মা, মিস আমাকে মেরেছে, আংকেল মারছে। আমি কিছু করি নাই। আমি তোমাদের বলে দিলে গলায় পাড়া দেবে আর মুখ সেলাই করে দেবে। আমি স্কুলে যাবো না।"
এরপর বাদী তার স্বামীকে নিয়ে স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটির হাত ধরে অফিসে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। শিশুটির মুখ ও গালে বারবার আঘাত করা হয়। নির্যাতন থেকে বাঁচতে শিশুটি চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রিন্সিপালের স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেন এবং সোফার সঙ্গে চেপে ধরে মারধর করেন।
শিশুটি কান্না করলেও তারা দীর্ঘ সময় ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের যন্ত্রণায় সেদিন রাতে শিশুটির মাথা, ঘাড় ও কানে ব্যথা হয় এবং সে কানে কম শুনতে পায়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন। দুজনকে আসামি করে শিশু আইন-এর ৭০ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
