সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে উদ্ধার শিশুর শ্বাসনালি কাটা, কথা বলতে পারছে না
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আট বছর বয়সী সেই কন্যাশিশুটির শ্বাসনালি কেটে গেছে। বর্তমানে সে কথা বলতে পারছে না।
রোববার (১ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তার গলায় সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার ড্রেসিং শেষে উন্নত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর এলাকার ইকোপার্কের ভেতরে সহস্রধারা ঝরনা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি পথের পাশে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা। তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের কাপড় দিয়ে শিশুটির গলা চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চমেক হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতেই শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তাকে ওসিসিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় রোববার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের তদন্ত চলছে।
শিশুটির পরিবার জানায়, রোববার সকালে সে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। তবে কীভাবে সে ওই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাল এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শিশুটি কথা বলতে না পারায় ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
