Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Monday
January 26, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
MONDAY, JANUARY 26, 2026
ভয় বা লজ্জার চাইতে সন্তানের নিরাপত্তা অনেক বেশি জরুরি

মতামত

শাহানা হুদা রঞ্জনা
24 January, 2026, 11:25 am
Last modified: 24 January, 2026, 11:29 am

Related News

  • শিশুর মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে নির্যাতন: নয়াপল্টনে স্কুলের সেই প্রিন্সিপালের স্বামী কারাগারে
  • শিশু নির্যাতন: ঢাকায় শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
  • ‘বাসায় বললে পাড়া দিয়ে ছিঁড়ে ফেলব’: রাজধানীর শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতন
  • শাস্তি নাকি নিষ্ঠুরতা? রাজধানীর স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ
  • নিউজিল্যান্ডে লাগেজ থেকে দুই বছরের শিশু উদ্ধার, এক নারী গ্রেপ্তার

ভয় বা লজ্জার চাইতে সন্তানের নিরাপত্তা অনেক বেশি জরুরি

সমাজে অনেক শিশু আছে যারা একটু হাইপার। কিছু শিশু আছে অটিস্টিক। এদের আচার-আচরণ অন্য শিশুদের চাইতে কিছুটা অন্যরকম। তাদের বুঝিয়ে কাজ করাতে হয়, বকে বা মেরে নয়। আমাদের যে কারো বাচ্চা এমনটা হতে পারে। তাই বলে কী তাদের পড়াশোনা হবে না? স্কুলে তাদের মার খেতে হবে?
শাহানা হুদা রঞ্জনা
24 January, 2026, 11:25 am
Last modified: 24 January, 2026, 11:29 am
শাহানা হুদা রঞ্জনা। স্কেচ: টিবিএস

'বাচ্চা ঘুমের মধ্যেও বলে উঠছে, মুখ সিলি করে দিও না' বাচ্চাটির এই আকুতির কথা যতবার মনে হচ্ছে, ততবার রাগে ঘৃণায় অস্থিরবোধ করছি। কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছে প্রি-প্রাইমারির এই বাচ্চাটি কতটা ট্রমাটাইজড হয়ে আছে। সে এতটাই ভয় পেয়েছে যে নিজের বাসাতেও থাকতে ভয় পাচ্ছে। যদি বাবা-মা তাকে আবার স্কুলে পাঠিয়ে দেয়, এই ভয়ে বাচ্চাটি নানার বাড়ি চলে গেছে।

প্রি-মাইরারির যে বাচ্চার শুধু হেসে খেলে স্কুলে যাওয়া–আসা করার কথা, এ-বি-সি/ অ-আ পড়ার পাশাপাশি ছড়া, গল্প শোনা ও ছবি আঁকার কথা, সেই বাচ্চাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান চেপে ধরে রেখেছেন, আর মারধর করছেন স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার। সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্য না দেখলে হয়তো মা-বাবা ও আমরা কখনোই জানতে পারতাম না স্কুল নামের এই হাজতখানায় পড়ানোর নামে আদোতে কী হচ্ছে।  

শিশুটির বাবা বলেছেন, স্কুলে ভর্তি হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তার ছেলে এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলো। নির্যাতনের ভিডিও দেখে তারা হতভম্ব। ছেলে বারবার বলছিল, 'আঙ্কেল বলেছে, বাসায় বললে গলায় পাড়া দেবে। মুখ সিলি (সেলাই) করে দেবে।' (প্রথম আলো) 

ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টন এলাকার মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমি নামের একটি স্কুলে ঘটেছে। নির্যাতিত শিশুটি এই দম্পতির একমাত্র সন্তান। বাবা-মা দেখলেন, 'একটি অফিস কক্ষে স্কুলের পোশাক পরা একটি শিশুকে নিয়ে ঢুকলেন এক নারী। শিশুটিকে প্রথমে ওই নারী চড় দিলেন। এরপর শিশুটির ওপর চড়াও হলেন আগে থেকেই অফিস কক্ষে থাকা এক পুরুষ। ওই পুরুষ কখনো শিশুটির গলা চেপে ধরছিলেন, কখনো মুখ চেপে ধরছিলেন। হাতে স্ট্যাপলার ছিল। শিশুটি কখনো কাঁদছিল, কখনো অস্থির হচ্ছিল। ওই নারী হাত ধরে তাকে আটকে রাখছিলেন। একপর্যায়ে শিশুটি ওই নারীর শাড়িতে থুতু ফেললে পুরুষটি শিশুটির মাথা শাড়িতে থুতু ফেলার জায়গায় চেপে ধরেন এবং সেই অবস্থায় কয়েকবার শিশুর মাথায় ঝাঁকি দেন।' (প্রথম আলো)

ভয়ভীতি, অভিযুক্ত অপরাধীদের ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে ঘটনা ঘটার চারদিন পর মা বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা করেছেন। এই ধারায় 'শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার দণ্ড' শিরোনামে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি তার হেফাজতে, দায়িত্বে বা পরিচর্যায় থাকা কোনো শিশুকে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ, ব্যক্তিগত পরিচর্যার কাজে ব্যবহার বা অশালীনভাবে প্রদর্শন করে এবং এর ফলে শিশুর দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় (শিশুর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট, শরীরের কোনো অঙ্গ বা ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি, মানসিক বিকৃতি ঘটে), তা হলে ওই ব্যক্তি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে। ওই অপরাধের সাজা হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তিরহিত করা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০১১' জারি করলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। শিশু আইন ২০১৩-তেও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অপরাধ। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসিক শাস্তি তো হরহামেশাই চলে। 

নীতিমালা থাকলেও সেভাবে নজরদারি না থাকার কারণে সার্বিকভাবে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। অন্যদিকে, মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কম। তবে নীতিমালার কারণে আগের চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শাস্তি দেওয়ার ঘটনা অনেক কমেছে।

সমাজে অনেক শিশু আছে যারা একটু হাইপার। কিছু শিশু আছে অটিস্টিক। এদের আচার-আচরণ অন্য শিশুদের চাইতে কিছুটা অন্যরকম। তাদের বুঝিয়ে কাজ করাতে হয়, বকে বা মেরে নয়। 

আমাদের যে কারো বাচ্চা এমনটা হতে পারে। তাই বলে কী তাদের পড়াশোনা হবে না? স্কুলে তাদের মার খেতে হবে?

হয়তোবা আমাদের এই শিশুটিও একটু অন্যরকম। থানায় পুলিশের কাছে শিশুটির মা-বাবা জানিয়েছিলেন, তাদের ছেলে খুব চঞ্চল প্রকৃতির ও জেদি। রেগে গেলে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে, থুতু দেয়। তাই স্কুলে ভর্তির সময় প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তারা এমনও বলেছিলেন, স্কুলের খুব কাছেই তাদের বাসা। কোনো সমস্যা হলে যেন তাদের ফোন করা হয়। 

তখন প্রধান শিক্ষক আশ্বস্ত করেছিলেন এই বলে, 'শিশুরা তো চঞ্চল হবেই। আমরা এমন শিশুদের "ম্যানেজ" করতে পারি।' কিন্তু এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুদের 'ম্যানেজ' করা হয় এটা তারা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি। ভিডিও দেখে তারা ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছেন।

বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম 'দ্য গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ টু এন্ড অল করপোরাল পানিশমেন্ট অব চিলড্রেন (জিআই)' প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে ২০২৪ সালের হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, স্কুলে শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে নীতিমালাটিকে আইনে রূপ দেওয়া দরকার। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশের বাড়ি, দিবাযত্ন কেন্দ্র, অভিযুক্তদের রাখার প্রতিষ্ঠানে এখনো শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ হয়নি।

২০২৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) প্রকাশিত 'ভায়োলেন্স এগেইনস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাক্টরস ইন আরবান এরিয়া অব ঢাকা, বাংলাদেশ' (ঢাকা শহরে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও সম্পর্কিত কারণ) শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৬ শতাংশ শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। গবেষণাটি হয় ২০১৯ সালে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুরের দুটি ওয়ার্ডে। গবেষণায় অংশ নেয় নিম্নবিত্ত পরিবারের ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী ৪০১ শিশু।

স্কুলে শারীরিক শাস্তি যেমন চড়, বেত্রাঘাত, কান ধরা, লাথি মারা ইত্যাদিকে ক্ষতিকর এবং অকার্যকর বলে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে শিশু মনোবিজ্ঞান নিয়ে করা অনেক গবেষণা। এইসব গবেষণায় বলা হয়েছে, শারীরিক শাস্তি শিশু-কিশোরদের মস্তিস্ক, আচরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি কোনো ইতিবাচক ফলাফল দেয় না, বরং সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। 

শিশুর মধ্যে তৈরি হয় ভয়, বিষণ্ণতা, নিজের সম্পর্কে নীচু আত্মসম্মানবোধ, আত্মহত্যার চিন্তা, আচরণগত সমস্যা। শিশুর মধ্যে বাড়ে আগ্রাসি তৎপরতা, অ্যান্টি-সোশ্যাল আচরণ, সহিংসতা করার প্রবণতা। বাচ্চাদের শিক্ষা ও শেখার আগ্রহ কমে যায়। ফলে রেজাল্ট খারাপ হয়। অনেক সময় শিশু ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না। আবার বাবা-মা বকা দেবেন এই ভয়ে বাসাতেও কিছু বলে না। কারণ অনেক বাবা-মা'ই মনে করেন, তাদের বাচ্চা দুষ্টু বলেই স্কুলে শাস্তি পেয়েছে বা মার খেয়েছে। শারমিন একাডেমির শিশুটির ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে।

অনেক অভিভাবক উল্টো তাদের সন্তানকেই গালমন্দ করেন। ফলে নির্যাতিত শিশুটি তথ্য গোপন করে, তার মধ্যে বাবা-মায়ের প্রতি বিরক্ত তৈরি হয় এবং স্কুল ছাড়ার ঝুঁকি বাড়ে। বড় হতে হতে সে মাদক, ও অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে, অথবা খুব দুর্বল প্রকৃতির মানুষ হতে পারে। 

বাসায় বা স্কুলে শারীরিক শাস্তি কেন কাজ করে না? একটা সময় বলা হতো 'মাইরের উপর ওষুধ নাই'। কিন্তু এখন এই কথা আর খাটে না, বরং মারাটা এখন অপরাধ। শিশু মারধোর বা বকার ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থামতে পারে, কিন্তু তার ভেতরে ভালো আচরণের বোধ তৈরি হয় না। বরং শিশু শেখে শক্তি দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায়। পরে তারাও অন্যদের মারধর করে।

শিশু মনোবিজ্ঞান বলে যে স্কুলে শারীরিক শাস্তি শিশুর জন্য ক্ষতিকর, অপ্রয়োজনীয় এবং অনৈতিক। এর পরিবর্তে ভালোবাসা, সম্মান ও ইতিবাচক পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর। শিশু যদি তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়, তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্বাস নষ্ট হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষককে আর সম্মান করতে চায় না এবং স্কুলকে নিরাপদ স্থান মনে করে না।

তাহলে কি শিক্ষার্থীরা অন্যায় করলে, বেয়াদবি করলে বা পড়া না শিখলে কিছুই বলা যাবে না? অবশ্যই বলা যাবে, তবে কৌশলটা ভিন্ন হবে। মারামারি, গালিগালাজ, খারাপ ব্যবহার, অপমান করা নয়। শিশুর সাথে সম্মানজনক, নিরাপদ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তার ভালো-মন্দটা তাকে বোঝাতে হবে। 

শিক্ষককে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, জানতে হবে ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট, সহানুভূতি ও সমানুভূতি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলতে হবে। ভালোবাসা, সম্মান, ধৈর্য ও ইতিবাচক পদ্ধতি ব্যবহার করলে শিশু সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও ভালো মানুষ হয়ে ওঠে। স্কুলে ইতিবাচক শৃঙ্খলা দরকার। গৃহে ও স্কুলে শিশুদের ভালো আচরণের প্রশংসা করতে হবে। প্রতিটা স্কুলের শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ দরকার। তাদের শেখাতে হবে কীভাবে ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট এবং শিশু-কিশোরদের সাথে সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়।

স্কুলে শিক্ষার্থী নির্যাতন ও শাস্তি, শারীরিক বা মানসিক, বাংলাদেশে অপরাধ এবং দণ্ডনীয়। এটি আইনত নিষিদ্ধ এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য। ২০১১ সালে হাইকোর্ট ডিভিশন স্পষ্ট রায় দিয়েছেন যে স্কুল, মাদ্রাসা বা যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি (corporal punishment) যেমন—বেত্রাঘাত, চড়, কান মলা, ধাক্কা,অপমানজনক আচরণ অসাংবিধানিক এবং নিষিদ্ধ। রায়ে বলা হয়েছে, এটি শিশুর জীবন, স্বাধীনতা ও মর্যাদার অধিকার লঙ্ঘন।

আইন থাকা সত্ত্বেও প্রয়োগের ঘাটতি আছে বলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায় বা তদন্ত দ্রুত হয় না। অনেক বাবা-মা সন্তানের প্রতি অবিচারের কথা জনেন না, জানলেও গুরুত্ব দেন না। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোররা মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয় এবং হচ্ছে। সব কেস প্রকাশিত হয় না। অভিভাবকরাও অনেকসময় এইসব ঘটনার কথা প্রকাশ করতে চান না। 

যদি শিক্ষার্থীর উপর নির্যাতন হয়, তাহলে তা না লুকিয়ে দ্রুত থানায় জিডি/মামলা (শিশু আইনের ধারা ৭০ অনুসারে), শিক্ষা অফিসার/উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিশু অধিকার ফোরাম বা বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের বিরুদ্ধেমামলা করা উচিত। কারণ ভয় বা লজ্জার চাইতে শিশুর নিরাপত্তা অনেক বেশি জরুরি।

ছাত্রছাত্রীকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা শারমিন একাডেমিতেই প্রথম নয়। শ্রেণিকক্ষে দুষ্টুমি করায় শিশুদের পেটানো, আটক করে রাখার মতো অসংখ্য ঘটনা ঘটে। এমনকি যৌন হয়রানিও করা হয়। অনেকক্ষেত্রে অভিভাবকরা আপসও করেন, সন্তানকে 'নামকরা স্কুলে' পড়াবেন বলে। 

বাড়ির কাজ না আনা, লিখতে-পড়তে ভুল করা, দুষ্টুমি করার মতো কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুকে দাঁড় করিয়ে রাখা, কান ধরে ওঠবস করানো, চুল টানা, কান মলা, সহপাঠীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে পাঠদানে বিরত রাখা, বকাঝকার করার মতো শাস্তি অহরহ দেওয়া হয়। অনেকে এগুলো শাস্তি দেওয়াকে বড় কোনো অপরাধ বলে মনে করেন না। কোনো কোনো অভিভাবক শিশুদের শাসন করার জন্য কিছু 'মারধরের' প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন। অভিভাবকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে, স্কুলে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও বন্ধ করা যাবে না।

অল্প সংখ্যক স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'শিশু সুরক্ষা নীতি ও প্রশিক্ষণের' ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও বিকাশের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। নয়তো শুরুতেই অনেক শিশু মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং পড়বে।  

শিশুদের সুরক্ষার জন্য শিশু নির্যাতনের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে। এ ধরনের ঘটনা কমিয়ে আনতে এবং হয়রানির ঝুঁকি হ্রাস করতে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হবে। শিশু নির্যাতনের লক্ষণ শনাক্ত হলে, চুপ করে থাকা নয়, অভিযোগ দায়ের করতে হবে। 

পাশাপাশি ভিক্টিম শিশুকে নিরাপদ স্থানে রেখে কাউন্সেলিং করাতে হবে। তাকে শতভাগ সাপোর্ট দিতে হবে। শিশু যেন মনে না করে এতে তার কোনো অপরাধ আছে। শিশুকেও বুঝিয়ে বলতে হবে স্কুলে শিক্ষার্থী নির্যাতন একটি অপরাধ। এই অপরাধ শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে এবং তা আইনত শাস্তিযোগ্য। 

স্কুল হওয়া উচিত এমন জায়গা, যেখানে শিশুরা শুধু পড়বেই না, নিজেকে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করবে। সেখানে যা হবে ভালো হবে। সেখানে এমন কোনো অভিজ্ঞতা হবে না, যেখান থেকে শিশু পালিয়ে বাঁচতে চাইবে। 


লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক


বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।

Related Topics

টপ নিউজ

শারমিন একাডেমি / শিশু নির্যাতন

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • আফসানা বেগম। ছবি: সংগৃহীত
    বই কেনায় ‘মন্ত্রী-সচিব কোটা’ বাতিলের প্রস্তাব: পদ হারালেন গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম
  • ছবি: দ্য ডন
    ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে’, পাকিস্তানের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: পিসিবি চেয়ারম্যান
  • ছবি: এপি
    ইরানের দিকে এগোচ্ছে মার্কিন নৌবহর ‘আর্মাডা’, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫,০০০ ছাড়ানোর দাবি
  • ছবি: সৌজন্যে
    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধন স্থগিত
  • ছবি: জ্যাকব অ্যান্ড কোং/ইন্সট্রাগ্রাম
    জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের ১৫ লাখ ডলারের ঘড়িতে অনন্ত আম্বানির প্রতিকৃতি
  • ২০১৯ সালের ১ জুন আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় যৌথ মহড়া চালায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর বি-৫২এইচ স্ট্র্যাটোফরট্রেস বোমারু বিমান।সূত্র: ইউএস নেভি
    মধ্যপ্রাচ্যের পথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক বহর: এক নজরে রণসজ্জা

Related News

  • শিশুর মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে নির্যাতন: নয়াপল্টনে স্কুলের সেই প্রিন্সিপালের স্বামী কারাগারে
  • শিশু নির্যাতন: ঢাকায় শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
  • ‘বাসায় বললে পাড়া দিয়ে ছিঁড়ে ফেলব’: রাজধানীর শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতন
  • শাস্তি নাকি নিষ্ঠুরতা? রাজধানীর স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ
  • নিউজিল্যান্ডে লাগেজ থেকে দুই বছরের শিশু উদ্ধার, এক নারী গ্রেপ্তার

Most Read

1
আফসানা বেগম। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

বই কেনায় ‘মন্ত্রী-সচিব কোটা’ বাতিলের প্রস্তাব: পদ হারালেন গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম

2
ছবি: দ্য ডন
খেলা

‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে’, পাকিস্তানের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: পিসিবি চেয়ারম্যান

3
ছবি: এপি
আন্তর্জাতিক

ইরানের দিকে এগোচ্ছে মার্কিন নৌবহর ‘আর্মাডা’, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫,০০০ ছাড়ানোর দাবি

4
ছবি: সৌজন্যে
বাংলাদেশ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধন স্থগিত

5
ছবি: জ্যাকব অ্যান্ড কোং/ইন্সট্রাগ্রাম
আন্তর্জাতিক

জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের ১৫ লাখ ডলারের ঘড়িতে অনন্ত আম্বানির প্রতিকৃতি

6
২০১৯ সালের ১ জুন আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় যৌথ মহড়া চালায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর বি-৫২এইচ স্ট্র্যাটোফরট্রেস বোমারু বিমান।সূত্র: ইউএস নেভি
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের পথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক বহর: এক নজরে রণসজ্জা

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net