শিশুর গায়ে ফুটন্ত কফি ঢেলে দেওয়া পলাতক আসামিকে খুঁজতে অস্ট্রেলিয়ায় চীনা পুলিশ
২০২৪ সালের এক মর্মান্তিক ঘটনা। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি এক শিশুর গায়ে ফুটন্ত গরম কফি ঢেলে দিয়েছিলেন। সেই পলাতক আসামিকে খুঁজতে এবার অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ দল পাঠাচ্ছে চীন।
ব্রিসবেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পার্কে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ওই নয় মাস বয়সী শিশু হামলার শিকার হয়। এতে শিশুটির মুখ ও হাত-পা মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।
পুলিশ ওই ৩৩ বছর বয়সী ব্যক্তিকে শনাক্ত করার আগেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চীনে অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, চীনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার কোনো অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শিয়াও কিয়ান বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তদন্তে সহায়তা করতে তাদের একটি 'ওয়ার্কিং গ্রুপ' বা কর্মীবাহিনী ব্রিসবেনে যাবে।
ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের শিয়াও বলেন, 'আমরা এই উদ্বেগের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আমরা অত্যন্ত আন্তরিক।'
তিনি আরও জানান, এই দলটি অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করবে। আসলে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল এবং পরবর্তী পদক্ষেপে দুই দেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে—তা খতিয়ে দেখবে তারা।
এক যৌথ বিবৃতিতে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, তারা 'চীনা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদলকে সহায়তা' করছে। অভিযুক্তের অবস্থানের কারণে সৃষ্ট জটিলতা সত্ত্বেও 'অব্যাহত সহযোগিতার' জন্য তারা চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'চীনা নাগরিকদের দেশের বাইরে করা অপরাধের জন্য বিচার করার আইনগত এখতিয়ার বা এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল জুরিসডিকশন বেইজিংয়ের রয়েছে।'
ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে 'ভ্রাম্যমাণ' কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছে। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একাধিকবার অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছেন। ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে তার থাকার ঠিকানাও ছিল।
হামলার প্রকৃতি এবং শিশুটির পোড়া ক্ষতের ভয়াবহতা দেখে পুরো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারটি যখন পিকনিক করছিল, ঠিক তখনই ওই ব্যক্তি ফ্লাস্কভর্তি গরম কফি শিশুটির গায়ে ঢেলে দেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ওই হামলার পর শিশুটির শরীরে বেশ কয়েকবার স্কিন গ্রাফটিং বা চামড়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
তিন মাস পর শিশুটির বাবা-মা জানিয়েছিলেন, তাদের ছেলের চিবুক ও কাঁধে এখনো ক্ষতের দাগ রয়েছে। তবে এটুকু ছাড়া বাকি সবকিছু 'ভালোর দিকেই এগোচ্ছে'।
শিশুটির চিকিৎসার জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেখানে ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ জমা পড়েছে।
