ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান: হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া ও জাপান
হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে তাঁর দুই প্রধান মিত্র অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি উন্মুক্ত রাখতে ওয়াশিংটন ক্রমাগত চাপ দিলেও, নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে ক্যানবেরা ও টোকিও।
অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং এবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাদের কাছে যে অনুরোধ এসেছে সে অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া কী ধরনের সহায়তা দিচ্ছে তা তারা স্পষ্ট করেছে।
কিং বলেন, 'আমাদের কাছে আসা অনুরোধগুলোর বিপরীতে আমাদের অবদান ঠিক কী হবে, সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিমান দিয়ে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিচ্ছি। বিশেষ করে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা এই সহায়তা দিচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, 'তবে আমরা হরমুজ প্রণালীতে কোনো জাহাজ পাঠাচ্ছি না। আমরা জানি এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। আমাদের কাছে চাওয়া হয়েছে বা যে বিষয়ে আমরা অবদান রাখছি বিষয়টি কিন্তু এমন নয়।'
এদিকে জাপানও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী তেলবাহী জাহাজকে পাহারা দিতে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেন, 'পাহারাদার জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। জাপান স্বাধীনভাবে কী করতে পারে এবং প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কী করা সম্ভব, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।'
এদিকে ইরান বর্তমানে এই সরু প্রণালী কার্যত অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোকে সামরিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই সরু হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়াশিংটন ডিসি সফরে যাচ্ছেন। সেখানে ট্রাম্পের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সংকট নিরসনের পথ খোঁজা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সফরের আগেই জাহাজ না পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে জাপান সরকার তাদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে।
