শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু
জাতীয় নাগরিক পার্টির ১১ দিনব্যাপী নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ ইশমামুল হকের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের দর্জি পাড়ায় শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারত করেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এ সময় তিনি বলেন, 'ইশমামুল হকরা যে কারণে জীবন দিয়েছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাদের (জুলাই শহীদদের) আকাঙ্ক্ষিত যে সংস্কার, সেটির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।'
আসিফ মাহমুদ বলেন, 'এনসিপির যে নির্বাচনী পদযাত্রা, তা শহীদ ইশমামুল হকের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।'
এর আগে, রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, ইশমামুল হকের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপি নির্বাচনী সফর শুরু করবে।
তিনি বলেন, 'আমাদের প্রার্থীদের আসন এবং যে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে এনসিপি শক্তিশালী সেখানে আমরা পথসভা করব। শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আমাদের নির্বাচনী জনসংযোগ শুরু করব।'
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এনসিপি। তিনি জানান, এগারো দলীয় জোটের পক্ষে ৩০ আসনে নির্বাচন করছে এনসিপি।
এ সময় তিনি বলেন, 'আমাদের প্রচারণার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব। তাছাড়া হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত করার জন্য আমরা প্রচারণা করব। আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই এবং আমাদের ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় প্রচারণায় উপস্থাপন করা হবে। আমরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ইশতেহার প্রকাশ করব।'
নির্বাচনে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, 'আমরা আশঙ্কা করছি প্রভাব বিস্তারের। আদালতের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আগে ক্ষমতাসীনদের ৪০-৫০ জন আইনজীবী পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখছি বিভিন্ন আসনের প্রান্তিক এলাকা থেকে মানুষ নিয়ে এসে মব ক্রিয়েট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচন যাতে করতে না দেওয়া হয়, সেই বিষয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।'
আসিফ মাহমুদ বলেন, 'আমরা আশা করছিলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কিন্তু একটা রাজনৈতিক দলের দলীয় প্যাডে বিভিন্ন পত্রিকা এবং টেলিভিশনের সাংবাদিকদের নাম আসছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য দলীয় প্যাডে নাম আশা আশঙ্কাজনক।'
তিনি আরও বলেন, 'বিজ্ঞাপনের মোড়কে একটি দলের প্রচারণা চলছে। এইখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার আশঙ্কা করছি। যদি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন আকারে দলীয় প্রচারণা করার সুযোগ থাকে, তাহলে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লাসহ সব দলকে সুযোগ দেওয়া হোক।'
সাবেক এই সমন্বয়ক আরও বলেন, 'আমরা এই পদযাত্রার মাধ্যমে জোটের সব দলের প্রার্থীদের পক্ষেই কাজ করব। আমরা একসাথে একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দিকে আমাদের কণ্ঠ ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা করেছি। আমরা আমাদের দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি জোটের প্রার্থীদেরও প্রচারণা করব।'
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
