আজ থেকে এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রা; জোটের কর্মসূচিতেও থাকবেন শীর্ষ নেতারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ১১ দিনে দেশের ২৪ জেলায় পদযাত্রা করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ২৫ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। একই সঙ্গে দলটির শীর্ষ নেতারা জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় ঐক্যের প্রচারণাতেও অংশ নেবেন।
গত শুক্রবার রাতে দলটির কার্যালয়ে নির্বাচনী পদযাত্রার ঘোষণা দেন মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। পদযাত্রার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামকে। এই পদযাত্রায় ২৭০ আসনে গণভোটে এনসিপির অ্যাম্বাসেডররা স্থানীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখবেন। এ লক্ষ্যে ২৩৮ আসনে ইতোমধ্যে এনসিপির গণভোট প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল দলটি তাদের নির্বাচনী থিম সং-ও উন্মোচন করেছে।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই জামায়াত ইসলামীর বিভিন্ন সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে নাহিদ ইসলাম, শুক্রবার পঞ্চগড়ে সারজিস আলম এবং রংপুরে আখতার হোসেন জামায়াত আমিরের সমাবেশে অংশ নেন।
একই দিন রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ অংশ নেন।
এনসিপির নেতারা জানান, পদযাত্রা মূলত তাদের নিজস্ব কর্মসূচি হলেও এর বাইরে দলটির নেতারা জোটের কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন। আবার এনসিপির পদযাত্রায় জোটভুক্ত অন্যান্য দলের স্থানীয় নেতারাও অংশ নিতে পারেন। সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
নির্বাচনী পদযাত্রার মুখ্য সমন্বয়ক ও জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম বলেন, "২৫ জানুয়ারি রাত ১১টা থেকে নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু হবে। এটি সারা দেশে চলবে এবং ঢাকায় একটি মহাসমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে।"
তিনি বলেন, "গণভোট কী এবং কেন 'হ্যাঁ' ভোটের প্রয়োজন—তা জনগণের কাছে তুলে ধরাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।"
তিনি আরও জানান, "সংস্কার, সুশাসন ও সার্বভৌমত্ব—এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে কর্মসূচি পরিচালিত হবে। নির্ধারিত ৩০টি আসনের বাইরেও সারাদেশে পথসভা করা হবে।"
দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি রাত ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রা শুরু হবে। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগ দিয়ে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে ধারাবাহিকভাবে জনসভা, পথসভা এবং শহীদদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হবে।
চট্টগ্রাম ও দক্ষিণাঞ্চলে কর্মসূচি
২৬ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে পদযাত্রার কার্যক্রম শুরু হবে। একই দিন চট্টগ্রাম মহানগরে পথসভা, চান্দগাঁওয়ে জনসভা এবং লক্ষ্মীপুরে আরেকটি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নেতারা নোয়াখালীর হাতিয়ায় রাত্রিযাপন করবেন।
২৭ জানুয়ারি হাতিয়ায় জনসভা শেষে সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ জানুয়ারি কুমিল্লার দেবিদ্বারে জনসভা এবং বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরেকটি জনসভা করার কথা রয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল
২৯ জানুয়ারি মৌলভীবাজারে জনসভা শেষে সিলেটে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ জানুয়ারি নরসিংদীতে জনসভা, ময়মনসিংহের ভালুকায় জনসভা এবং ময়মনসিংহ মহানগরে পথসভা হবে। পরদিন ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে জনসভা ও সিরাজগঞ্জে আরেকটি জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে পদযাত্রা
১ ফেব্রুয়ারি সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের কর্মসূচি শুরু হবে। ওই দিন রংপুর, কুড়িগ্রাম ও রংপুর শহরে ধারাবাহিক জনসভা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পঞ্চগড়ে রাত্রিযাপন করা হবে।
২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে জনসভা শেষে পদযাত্রা নাটোরে পৌঁছাবে। ৩ ফেব্রুয়ারি নাটোরে জনসভা এবং রাজশাহীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ও সমাপনী কর্মসূচি
৪ ফেব্রুয়ারি খুলনায় পথসভা, পিরোজপুরে জনসভা এবং বরিশালে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে জনসভা শেষে বিকেলে ঢাকায় জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী পদযাত্রা কর্মসূচি শেষ হবে।
এনসিপি নেতারা জানান, এই পদযাত্রার মাধ্যমে জনগণের কাছে রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে। তারা দাবি করেন, এই কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনের আগে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এনসিপির নির্বাচনী থিম সং উদ্বোধন
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের থিম সং উন্মোচন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল রাজধানীর শাহবাগে 'মাদুর পেতে নির্বাচনী থিম সং লঞ্চ' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে নিজেদের থিম সং প্রকাশ করে দলটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, যে জায়গায় তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেখান থেকেই থিম সং উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, "আমরা এই আয়োজনের জন্য কোনো ফাইভ স্টার হোটেলে যাইনি।"
তিনি আরও বলেন, এনসিপি চায় দলের সব কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকুক। সে লক্ষ্যেই সবাই যেন সহজে অংশ নিতে পারেন, এমন সরল পরিসরে এই আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
