খাদ্যপণ্যের নমুনার বেশিরভাগেই পাওয়া যাচ্ছে অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট, সতর্ক করল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংগৃহীত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনার অধিকাংশেই নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
সংস্থাটি বলছে, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে এখনই এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীতে বিএফএসএ এবং মুয়েন্জার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেড-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর ব্যবহৃত রান্নার তেলের ক্ষতিকর প্রভাব'- শীর্ষক সেমিনারে বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এ তথ্য জানান।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত নমুনার মধ্যে সয়াবিন তেলের ১১টির মধ্যে ৭টি, ডালডার ৯৫টির মধ্যে ৯৩টি, বাটারের ৩০টির মধ্যে ২৬টি এবং মার্জারিনের ১৪টির মধ্যে ৬টি নমুনায় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মূল প্রবন্ধে বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ''শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাটের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। ট্রান্স ফ্যাট রক্তনালিতে জমে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৯ জন হৃদরোগে মারা যায়, যার প্রায় ৪ শতাংশ মৃত্যুর সঙ্গে ট্রান্স ফ্যাট জড়িত।''
তিনি আরও বলেন, ''২০২১ সালে প্রণীত 'খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা' অনুযায়ী খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।''
খাদ্যে অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পোড়া তেল ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, ''সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে হলে খাদ্যে পোড়া তেলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।''
তিনি ব্যবহৃত তেল যেন পরিবেশের ক্ষতি না করে, সে জন্য এর সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএফএসএ সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ''যেখানে ট্রান্স ফ্যাট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।''
কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, গত রমজান মাসে ৭২০টি মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ব্যবসায়ীদের পোড়া তেলের ক্ষতিকর দিক এবং তা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের বিষয়ে অবহিত করা হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তাতে ট্রান্স ফ্যাট ও ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি হয়, যা ক্যান্সার, হৃদরোগ ও লিভারের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ব্যবহৃত তেল খাদ্যে পুনর্ব্যবহার না করে তা সংগ্রহ করে বায়োডিজেল উৎপাদনে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বক্তারা।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী বিজ্ঞানী ড. আহমেদ খায়রুল আবরার বলেন, ''পোড়া তেল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং কোনো তেল দুই থেকে তিনবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।''
সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, খাদ্য ব্যবসায়ী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
