নারায়ণগঞ্জে খেয়াঘাটের শিডিউল জমা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-এনসিপি সমর্থকদের সংঘর্ষ
নারায়ণগঞ্জে খেয়াঘাটের দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাথে জামায়াত ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছেন।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলায় বক্তাবলী ঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের অনুসারীরা দরপত্র জমা দিতে না পারলেও এনসিপির কর্মীরা দরপত্র জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল আজ। এই ঘাটের ইজারা নিতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির অনুসারীরা আগ্রহী ছিল। তবে সকাল থেকে পুরো উপজেলা কেন্দ্র ঘিরে রাখে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
দুপুর ১টার দিকে জামায়াত এবং এনসিপি কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বাধা দেন বিএনপি কর্মীরা। এ সময় বক্তাবলী ইউনিয়ন এনসিপির নেতা তাওহিদ প্রতিবাদ করলে তাকে এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকরকে মারধর করেন বিএনপি কর্মীরা। দরপত্র জমা দিতে না পেরে চলে যান জামায়াতের কর্মীরা।
ঘটনা জানাজানি হতেই উপজেলার সামনে জড়ো হতে থাকেন এনসিপির কর্মীরা। দুপুর আড়াইটায় ফের হাতাহাতিতে জড়ান বিএনপি ও এনসিপির কর্মীরা। একপর্যায়ে এনসিপির কর্মীরা বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীদের মারধর করে তাড়িয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মারধরে আহত এনসিপি নেতা তাওহীদ বলেন, সকাল থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি টিটুর অনুসারীরা আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মারধর করেন। আমি এবং জামায়াতের আমির আবু বকর আহত হই। মারধরের খবর পেলে আমাদের কর্মীরা উপজেলায় জড়ো হন। তখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ফের উসকানি দিয়ে মারামারিতে জড়ায়।
বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকর বলেন, 'এনসিপি নেতা তাওহীদকে বাঁচাতে গিয়ে আমি মারধরের শিকার হই। আমার পরিচিত দুই ছোটভাই মোকলেসিন ও শাহীন দরপত্র জমা দিতে আসে। মারামারি ও বিএনপির বাধার কারণে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেননি।'
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধান আমাদের মারধর করেছেন।
এই বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, 'আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি, যেন ঝামেলা না হয়। গতরাত থেকেই আমি জামায়াত এনসিপির নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনা করে বলেছি যে সম্মিলিতভাবে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমি ইউএনও ও ওসির সাথে কথা বলেছি। এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মিলেমিশেই কাজটি করা যেত।'
এই বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, 'দুপুরে দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এখানে মারামারি বা সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।'
