চীন-জাপান সম্পর্কের অবনতি; অশ্রুসিক্ত চোখে দুই পান্ডাকে বিদায় জানালো জাপানিরা
জাপানের উয়েনো চিড়িয়াখানায় রবিবার হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন দেশের শেষ দুটি জায়ান্ট পান্ডাকে বিদায় জানাতে। আগামী মঙ্গলবার এই যমজ পান্ডা শিয়াও শিয়াও ও লেই লেইকে চীনে ফেরত পাঠানো হবে। খবর বিবিসি'র।
দর্শনার্থীরা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এই প্রিয় প্রাণী দুটিকে শেষবারের মতো দেখেছেন।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মুখে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি বলেন, 'চীন যদি তাইওয়ান আক্রমণ করে, জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করবে।' এরপর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে।
যমজ পান্ডা দুটির চলে যাওয়ার ফলে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো জাপান পান্ডাশূন্য হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল।
চীন ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আন্তর্জাতিক বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে জায়ান্ট পান্ডা ব্যবহার করে আসছে। তবে চীন বিদেশে ঋণ দেওয়া সব পান্ডা এবং বিদেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া তাদের ছানাদের মালিকানা নিজের কাছে রাখে। এর বিনিময়ে স্বাগতিক দেশগুলোকে প্রতি জোড়া পান্ডার জন্য বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার ফি দিতে হয়।
টোকিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিড়িয়াখানায় শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই শেষবার দেখার জন্য নির্ধারিত ৪,৪০০টি স্থানের বিপরীতে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ আবেদন করেছিলেন।
বিবিসিকে এক নারী বলেন, 'আমার ছেলে যখন ছোট ছিল, তখন থেকেই তাকে এখানে নিয়ে আসছি। আশা করি এটি তার জন্য একটি ভালো স্মৃতি হয়ে থাকবে। তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে আজ এখানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত।' আরেক নারী বলেন, 'ছোটবেলা থেকে পান্ডাগুলোর বড় হওয়ার যাত্রা দেখাটা ছিল দারুণ আনন্দের।' বিদায়ের সময় অনেক দর্শনার্থীকে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখা গেছে।
শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই ২০২১ সালে উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্মগ্রহণ করেছিল। পা্নডা দুটির মা শিন শিন ও বাবা রি রিকে প্রজনন গবেষণার উদ্দেশ্যে চীনের পক্ষ থেকে জাপানকে ঋণ দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের পান্ডা ঋণ দেওয়া বড় বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা চিড়িয়াখানাকে পান্ডা দেওয়ার সময় চীনের সঙ্গে স্যালমন মাছ, ল্যান্ড রোভার গাড়ি এবং জ্বালানি প্রযুক্তি সরবরাহের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল।
গত কয়েক বছরে বহু পান্ডা চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাধারণত ঋণ চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর হয়, যদিও প্রায়ই তা বৃদ্ধি পায়। তবে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জাপানে নতুন করে পান্ডা ঋণ দেওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
তাইওয়ান সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির মন্তব্য বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছে। চীন স্বশাসিত দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে এবং পুনরুদ্ধারে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। এরপর থেকে উভয় পক্ষ একে অপরের প্রতি বৈরী আচরণ ও মন্তব্য করছে। এই মাসের শুরুতে চীন জাপানে বিরল খনিজ সম্পর্কিত পণ্যের রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
