সিরাজগঞ্জে গুঁড়ো দুধের কারখানা স্থাপন ও তাঁত শিল্প পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের
সিরাজগঞ্জের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে স্থানীয় সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এবং দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জে ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সিরাজগঞ্জকে দেশের 'দুগ্ধ ভাণ্ডার' উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশ থেকে গুঁড়ো দুধ আমদানিতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ সিরাজগঞ্জের খামারিরা দুধের নায্যমূল্য না পেয়ে লোকসান গুণছেন। তারা রাস্তায় দুধ ঢেলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্য লজ্জাজনক।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জোট সরকার ক্ষমতায় এলে দুধ প্রসেসিংয়ের জন্য আর ঢাকায় পাঠাতে হবে না। সিরাজগঞ্জেই আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিনির্ভর গুঁড়ো দুধের কারখানা গড়ে তোলা হবে। এতে খামারিরা নায্যমূল্য পাবেন এবং হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
তাঁত শিল্প প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কাঁচামালের অভাব ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাঁতিরা আজ দিশাহারা। তাঁত শিল্প বসে যাওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, 'তাঁতিদের জন্য সহজলভ্য কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তাঁত পণ্যের মানোন্নয়ন করে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। আমরা তাঁত শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেব।'
নদী ভাঙন রোধ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'বর্তমানে নদী রক্ষায় বাঁধ বা স্ল্যাব নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার মতো দুর্নীতি হয়। এটি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে পারলে প্রকল্পের অর্থ নদীগর্ভে বিলীন হবে না। নদী খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে মৎস্য সম্পদ ও নৌপথের উন্নয়ন করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলোকে চাঙ্গা করার মাধ্যমেই বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।'
সরকার গঠন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আল্লাহ সুযোগ দিলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করব। তবে সরকারে অংশগ্রহণের জন্য তিনটি প্রধান শর্ত মানতে হবে।প্রথমত, সরকার পরিচালনায় কেউ নিজে দুর্নীতি করতে পারবেন না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, ধনী-দরিদ্র ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, আইনের শাসন এমন হবে যেখানে সাধারণ নাগরিকের অপরাধে যে বিচার হবে, দেশের রাষ্ট্রপতির অপরাধ করলেও একই বিচার হতে হবে।'
