উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই: শফিকুর রহমান
বিগত সরকারগুলোর অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে ধ্বংসের মুখে পড়া উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ ভোটে নির্বাচিত করে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে উত্তরবঙ্গের মরা নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, 'আমি এসেছি সাড়ে ১৫ বছর গোটা দেশ এবং জাতি ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে যে নির্যাতিত হয়েছে, সেই নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠ হয়ে। আমি এসেছি সাড়ে ১৫ বছরে যে সমস্ত শিশুরা পিতা হারিয়ে এতিম হয়েছে, তাদের দুঃখের গল্প শোনাতে।'
তিনি বলেন, 'আমি এসেছি সেই সমস্ত মজলুম মানুষের জন্য, স্বৈরাচারী সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার অপরাধে তাদের ন্যায্য চাকরিটা কেড়ে নিয়েছিল, তাদের পক্ষে কথা বলতে। '
তিনি বলেন, 'এই অঞ্চলে (উত্তরবঙ্গ) বয়ে চলা নদীগুলোতে এক সময় জাহাজ চলত, এখন আর নৌকাও চলে না। নদীর পানি উবে গিয়ে এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।'
ডা. শফিকুর বলেন, 'কার্যত অতীতের সরকারগুলোর উপেক্ষা, উদাসীনতা, অবহেলা গোটা উত্তরবঙ্গকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে আপনাদেরকে আমরা কথা দিচ্ছি- উত্তরবঙ্গের মানুষের নয় শুধু, বাংলাদেশের আপামর জনতার ভালোবাসা, দোয়া, সমর্থন এবং ভোট নিয়ে আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে উত্তরবঙ্গে প্রথমে আমাদের দৃষ্টি পড়বে মরা নদীগুলোর ওপর।'
তিনি বলেন, 'আমরা গোটা উত্তরবঙ্গকে একটা কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই। যাচাই-বাছাই করে গাইবান্ধায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এখানে ইপিজেড করার সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবায়ন নেই; আমরা ইপিজেড বাস্তবায়ন করব। বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাটে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।'
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মরণ করে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আপনাদের বুকের সন্তান আবু সাঈদ বাংলাদেশকে বদলে দিয়ে গেছে। সে বলে গেছে—হে বাংলাদেশ, তোমাদের হাতের তালুতে আমার রক্ত, আর ঘাড়ের ওপর আমার লাশ রেখে আমি বিদায় নিচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, 'সাড়ে ১৫ বছর ধরে গোটা দেশ ও জাতি ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে নির্যাতিত হয়েছে। ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী শাসন আমরা আর দেখতে চাই না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচনও সফল হবে। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে হলে গণভোটে "হ্যাঁ" বলতে হবে।'
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে কঠোর ভাষায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'কোনো আধিপত্যবাদের ছায়া বাংলাদেশে আমরা দেখতে চাই না। আমরা কারো ওপর খবরদারি করতে চাই না, আবার কেউ এসে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশে খবরদারি করবে—তাও মেনে নেব না। বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই।'
বেকার সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা বেকার ভাতা দেব না। বেকার ভাতা দিলে তা বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়। আমরা ইনশাআল্লাহ প্রত্যেক যুবক-যুবতীর হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করব।'
চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, 'চাঁদাবাজ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। আমরা চাঁদাবাজদের নির্মূল করব। তবে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগও দেওয়া হবে।'
তিনি বলেন, 'ভয় পেয়ো না চাঁদাবাজ, তোমরাও এ সমাজের মানুষ। আমরা তোমাদের হাতেও সম্মানের কাজ তুলে দেব। তোমরা সম্মানের সাথে বসবাস করবা, সেদিন আর মুখ লুখিয়ে তোমাদের চলতে হবে না। তোমাদের মা-বাবাকে কেউ চাঁদাবাজের মা-বাবা কেউ বলবে না। তোমার স্ত্রীকে কেউ চাঁদাবাজের স্ত্রী বলে খোঁটা দেবে না। আর মাঝে মাঝে মানুষের জালে বন্দি হয়ে তোমাদের বিপদে পড়তে হবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের চুরি হওয়া অর্থ যদি ফেরত আনা যায়, আর নতুন চোরদের হাত যদি অবশ করে দেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যাবে।'
সমাবেশে তিনি গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। প্রার্থীরা হলেন—গাইবান্ধা-১ আসনে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনে জেলা আমীর আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৪ আসনে ডা. আব্দুর রহিম সরকার এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ।
