চট্টগ্রাম-৮: জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এনসিপির জোবাইরুলকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা জামায়াতের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে ১০-দলীয় নির্বাচনি জোটের প্রার্থী জটিলতার অবশেষে অবসান হয়েছে। নানা নাটকীয়তা ও অসন্তোষের পর এই আসনে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এর আগে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেও এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় জোটের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।
তবে সেই ঘটনার একদিন পর আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জোটের একক প্রার্থীকে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রার্থী ডা. আবু নাসের উপস্থিত ছিলেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, 'জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটের স্বার্থে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন। ডা. আবু নাসের অসুস্থ থাকায় নিজে উপস্থিত হতে পারেননি। ঢাকায় অবস্থান করায় গতকাল (মঙ্গলবার) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারও করতে পারেননি।'
এ সময় নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম ও দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও জোটের প্রার্থীকে সমর্থনের বিষয়ে জানতে ডা. আবু নাসেরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জামায়াতের এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, 'আমার ভাই ডাক্তার আবু নাসের আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। শাপলা কলির জয় নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেছেন। চট্টগ্রাম-৮ এর ময়দান ভাইয়ের হাতেগড়া বললে অত্যুক্তি হবে না। মানবিক ডাক্তার নাসের ভাই বোয়ালখালী ও চান্দগাঁওয়ের পথে প্রান্তরে কাজ করেছেন। এই কাজ উনি দশ দলীয় জোটের পক্ষে উৎসর্গ করেছেন। ভাইয়ের দোয়া নিয়ে, ইনশাল্লাহ, আগামীকাল থেকে আমরা একজোট হয়ে চট্টগ্রাম ৮-এর আনাচেকানাচে ছড়িয়ে যাব। আল্লাহ আমাদের কামিয়াব করুন, আমিন! ইয়া রাব্বিল আলামিন।'
উল্লেখ্য, আসনটি জোটের শরিক এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবার সময় মতো জামায়াত প্রার্থী সরে না দাঁড়ানোয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওইদিন রাতে নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় '১০-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট, চট্টগ্রাম অঞ্চল'-এর ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে জোটের সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ আনা হয়। সেখানে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
এই আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা খেলাফত মজলিস নেতা এনায়েত উল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, '১০ দলীয় ঐক্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীই চূড়ান্ত।'
সংবাদ সম্মেলনে জোটের ঐক্য রক্ষায় তিনি নিজে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন এবং অন্য শরিকদেরও একই অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর এখন মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১১১ জন। কমিশন জানিয়েছে, এই চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতেই ব্যালট প্রস্তুতসহ পরবর্তী নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আজ (বুধবার) চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা।
