নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন: ইসিকে জামায়াতের অভিযোগ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দলীয় প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা' গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই অভিযোগ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এ সময় উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন জানান, তিনি ঢাকা-১৫ আসনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক গ্রহণ করেছেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, 'আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তাদের একটি অংশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়ার কথা, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীরা সেখানে একটি বিশেষ দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।'
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'আমরা ইসিকে জানিয়েছি—যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, প্রয়োজনে তাদের তালিকাও একসময় জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাধ্য হব, যদি কমিশন যথাযথভাবে বিষয়টি দেখভাল না করে এবং তাদের নিরপেক্ষ থাকতে বাধ্য না করে। জনগণকে বিষয়টি জানানো আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে।'
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আমরা আশা করি নির্বাচন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত ও ভয়-ভীতিমুক্ত হবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে—বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও নাজেহাল করার ঘটনা ঘটছে। গতকাল ঢাকা-১৫ আসনেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।'
নারীদের দিয়ে আগাম প্রচারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। নির্বাচনি আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে আমরা শুরু থেকেই সবচেয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার দিনই আমরা স্বেচ্ছায় সব প্রচারসামগ্রী অপসারণ করেছি।'
ঢাকা-১৫ আসনে হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, 'একটি বিশেষ দলের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে আমাদের নারী ভোটার, নারী কর্মী ও পুরুষ কর্মীদের ওপর। গতকাল রাতে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।'
নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, 'আগামী নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সবার কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি।'
