মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ: বিএনপি ২৮৫, জামায়াত ২১৫, এনসিপি ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় গতকাল শেষ হওয়ায় কোন দল কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—সে বিষয়ে এখন একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে।
দলগুলো এখনো তাদের চূড়ান্ত আসনসংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করলেও দলীয় সূত্রের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, বিএনপি অন্তত ২৮৫টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে, জামায়াতে ইসলামী অন্তত ২১৫টি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অন্তত ৩০টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে আসা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৯টি আসনে নির্বাচন করবে।
এছাড়া জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) ১৯৫টি আসনে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৯টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ১০২টি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া গণঅধিকার পরিষদ শেষ পর্যন্ত ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ট্রাক প্রতীকে ৯১ জন প্রার্থীকে মাঠে রাখছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টিবিএসকে বলেন, 'আমাদের সমঝোতার আওতাভুক্ত আসনগুলোতে প্রার্থীদের রেখে বাকি আসনগুলোতে প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। অন্তত ২১৫ জন জামায়াত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করবেন।'
তিনি বলেন, 'তবে অন্তত দুটি আসনে সংশ্লিষ্ট এলাকার সমর্থকেরা জামায়াত প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে দেননি। সেখানে কর্মীরা প্রার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসব আসন এবং যেসব আসনে সমঝোতা হয়নি, সেগুলো উন্মুক্ত থাকবে। ফলে ওই আসনগুলোতে জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।'
মৌলভীবাজার-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকেরা জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধা দিতে তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই আসনে ১০-দলীয় জোট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বেলালকে চূড়ান্ত করেছিল।
একইভাবে সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী ও দলটির জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমেদকে দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা শহরের জেলা কার্যালয়ে আটকে রাখেন। ওই আসনটি ১০-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল।
রাজশাহীতে বিএনপি নেতা সুলতানুল ইসলাম তারেক, যিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন, তাকেও গতকাল সকাল আনুমানিক ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত তার নিজ দলের কর্মী ও সমর্থকেরা বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
শেষ সময় ঘনিয়ে এলে তিনি তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন পাঠান এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সঙ্গে ভিডিও কলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন ছাড়া বাকি ২৯৮টি আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্ধারিত পদ্ধতিতে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৪১৭ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর, এ সময় মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
নির্বাচনে এআই-এর অপব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছড়ানো নানা ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলা করা একটি 'বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ'।
নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ 'পোস্টাল ভোটিং (আইটি সাপোর্টেড)' নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গতকাল কমিশনে সব রাজনৈতিক দলের 'টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন' প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, 'এখন এআইয়ের যুগ, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা আমাদের জন্য বড় সমস্যা হতে পারে। আমি শুরু থেকেই এ কথা বলে আসছিলাম।'
একই বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ বলেন, 'এ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এতসংখ্যক দলের অংশগ্রহণ ইতিবাচক। আমরা আশা করি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে, বড় ধরনের সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস।'
