আগাম নির্বাচনী প্রচারণা: জামায়াত, এনসিপিসহ আরও ২ দলকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ধারিত সময় শুরুর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চারটি রাজনৈতিক দলকে লিখিতভাবে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রধানদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। চিঠিতে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৩ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বিএনপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটভুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২১ জানুয়ারি নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে বিভিন্ন আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম 'সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫'-এর বিধি ১৮ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৪৪খ অনুচ্ছেদের (৩ক)(ছ) অনুযায়ী স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিএনপি উল্লেখ করেছে, তারা আচরণবিধি মেনে চললেও প্রতিপক্ষ দলসমূহ আগাম প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছে, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে ক্ষুণ্ন করছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এটি শুধু নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক সমতাকে ক্ষুণ্ন করছে। অথচ নির্বাচন কমিশন রহস্যজনকভাবে নির্লিপ্ত রয়েছে।
দলটি কমিশনের কাছে আবেদন করেছে, যেন সকল প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলে এবং প্রতিযোগীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ইসি সচিবালয় জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের আমির এবং এনসিপির প্রধানকে আগাম প্রচারণা বন্ধ করার চিঠি পাঠায়।
অভিযোগ যাচাই করে ইসি দলের প্রধান ও সদস্যদের সতর্ক করেছে, যেন তারা নিয়ন্ত্রিতভাবে আচরণ করে এবং নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা বন্ধ রাখে।
চিঠির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর তরফ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে জামায়াত ও এনসিপিও বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা দিয়েছে।
দলগুলোর নেতারা ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইসির ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেন, 'দলগুলোকে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমরা আগাম প্রচারণা নিয়ে সতর্ক করেছি। বিএনপির দেওয়া অভিযোগ ও দস্তাবেজের ভিত্তিতে চারটি দলকে সতর্ক করা হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে এবং বুধবার নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সহযোগিতা অত্যাবশ্যক বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্পূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি উপযুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ভোট ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে ইসি সচিবালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে।
চিঠিতে সাতজন নেতাসহ জামায়াতের আমির ও একজন বিএনপি প্রার্থীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
