৯৯.১৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বিজিএমইএ সভাপতি, মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা
চুয়াডাঙ্গা–২ (দামুড়হুদা–জীবননগর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি তার আয়, সম্পদ, ঋণ ও ব্যক্তিগত তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মাহমুদ হাসান খানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ৯৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা অর্জনকালীন মূল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ প্রায় ৮৭ কোটি টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। বছরে তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬২৬ টাকা। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
ইসিতে জমা দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, মাহমুদ হাসান খান স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা এবং বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকার গুলশান–২ উল্লেখ করেছেন। ৫৯ বছর বয়সী এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, যা তদন্তাধীন।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তার নগদ অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ১ হাজার ৬৪৫ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩২ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩১ টাকা।
এ ছাড়া গুলশান ক্লাব লিমিটেডে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ এবং ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ির মালিকানা রয়েছে তার।
স্থাবর সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, তার নামে প্রায় সাড়ে তিন একর কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ৪২ শতাংশ আয়তনের জমির ওপর একটি ভবন রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১১ কোটি ৫৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬৬১ টাকা। পাশাপাশি ৬২৫ বর্গফুট আয়তনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬২ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, মাহমুদ হাসান খানের বছরে মোট আয় ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬২৬ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০০ টাকা। বাসাবাড়ি ভাড়া থেকে আয় ১ কোটি ৭৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৯ টাকা। শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র থেকে আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯০ টাকা। অন্য উৎস থেকে আয় ২০ হাজার টাকা।
নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিজেকে চাকরিজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সেখান থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮৮ লাখ ২৩ হাজার ২৮৬ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ করবর্ষে মাহমুদ হাসান খান ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। তার স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৯ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাহমুদ হাসান খানের নামে ব্যক্তিগত ঋণের মোট পরিমাণ ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে রাইজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ১২ কোটি ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং অ্যাকটিভ কম্পোজিট মিলস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।
হলফনামায় তার স্ত্রী নার্গিস আক্তারের সম্পদ ও আয়ের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। নার্গিস আক্তারের বছরে আয় দেখানো হয়েছে ২৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা অর্জনকালীন মূল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ১৬ কোটি ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৪৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
নার্গিস আক্তারের নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ৫০ ভরি স্বর্ণের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
এছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাব রয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার।
