ফরিদপুর-১: জুলাই হত্যা মামলার আসামি আ.লীগ নেতা আবুল বাসারের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবুল বাসার খানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে।
গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের দ্বিতীয় দফা শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-১ আসনে দাখিলকৃত ১৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৮টি বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে তারা হলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. ইলিয়াস হোসেন মোল্লা, বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) শাহ্ মো. আবু জাফর, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বাসার খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি শরাফত হুসাইন, জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মুহাম্মদ খালিদ বিন নাছির।
অন্যদিকে, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ৮ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন—এনসিপি নেতা হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর, স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়লা আরজুমান বানু, ড. গোলাম কবির মিয়া, মো. আরিফুর রহমান দোলন ও মো. সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুসহ আরও তিনজন।
এর আগে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে এই আসনের ৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল এবং ৮ জনের প্রার্থিতা স্থগিত রাখা হয়েছিল। স্থগিত প্রার্থীদের হলফনামায় থাকা সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে আয়করের তথ্যের অসংগতি, তথ্য গোপন এবং মামলার তথ্য উল্লেখ না করার বিষয়গুলো সামনে এসেছিল।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংসদীয় আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষরের সত্যতা না পাওয়ায় কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া মো. আবুল বাসার খান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি দলটির ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা শাখার বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের ৫ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রার্থিতা বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনমনে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, আবুল বাসার খান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। গত ৫ আগস্টের পর সাবেক এই মন্ত্রীর সঙ্গে আবুল বাসারের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগে ফরিদপুরে মামলা রয়েছে, যেখানে তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
