২০২৫ সালে ৫৩৯ সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার: এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদন
২০২৫ সালে সারাদেশে অন্তত ৩১৮টি হামলায় মোট ৫৩৯ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে ২০২৫ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৩ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ২৭৩ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন ও আহত হয়েছেন। ৫৭ জন লাঞ্ছিত এবং ৮৩ জনকে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। বছরজুড়ে ১৭ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩৪টি মামলায় ১০৭ জন সাংবাদিককে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এইচআরএসএস জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা গত বছরেও দৃশ্যমান ছিল। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অধীনে মোট ২৭টি মামলা হয়েছে, যেখানে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার ও ৫৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৪৭টি সভা-সমাবেশে বাধা দিয়েছে, যাতে ৫১২ জন আহত এবং ৩৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সংস্থাটি বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং কারাগারে মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে, নির্যাতন বা বন্দুকযুদ্ধে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হেফাজতে ১২ জন এবং নির্যাতনে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কারাগারে অসুস্থতা বা নির্যাতনে আরও ৯২ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ জন কয়েদি এবং ৬২ জন হাজতি। এছাড়া পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে ও অসুস্থ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৫ সালে কমপক্ষে ২০৪৭ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮২৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এর মধ্যে ৪৭৪ জন ১৮ বছরের কম বয়সী বা শিশু। এছাড়া ১৭৯ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষণের শিকার এবং ধর্ষণের পর ২৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া এসব ঘটনায় আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন নারী । ৪১৪ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ২৩৬ জন। এছাড়া যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৩৫ জন (আত্মহত্যা-৪) ও আহত ৩২ জন। তাছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ৩৮৩ জন (আত্মহত্যা ১৯৪ জন) নিহত ও আহত ১৩৩ জন। এসিড সহিংসতায় শিকার হয়ে নিহত ২জন এবং আহত ২ জন। অন্যদিকে, শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩৭১ জন, যাদের মধ্যে ২৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০৮৩ জন শিশু বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, 'দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।' এসময় তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ এবং মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
